যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ডেলসি রদ্রিগেজ। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আজই দেশটির সুপ্রিম কোর্টে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেবেন তিনি। ডেলসি রদ্রিগেজ মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তার শাসনামলে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করেছেন।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সরকারি ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে ডেলসিকে প্রায়ই মাদুরো ও তার স্ত্রীর পাশে দেখা যেত। তিনি প্রকাশ্যেই মাদুরোকেই ভেনেজুয়েলার ‘একমাত্র বৈধ প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তার মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছেন। পেশায় আইনজীবী ও কূটনীতিক ডেলসি রদ্রিগেজ মাদুরোর শাসনামলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ৫৬ বছর বয়সী এই নেত্রী মাদুরোর ঘনিষ্ঠ মহলের সদস্য ছিলেন।
মাদুরোকে আটক করার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর যোগাযোগ হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যা চাইবে, তা করতে ডেলসি প্রস্তুত বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্ন সুরে কথা বলেন ডেলসি রদ্রিগেজ। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন, ভেনেজুয়েলা কখনোই কোনো ‘সাম্রাজ্যের উপনিবেশে’ পরিণত হবে না।
এরপর ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ডেলসি রদ্রিগেজ যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেন, তবে তার পরিণতি মাদুরোর থেকেও ভয়াবহ হবে। যদিও রোববার অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে তুলনামূলকভাবে নরম অবস্থান নেন ডেলসি। ওই বৈঠকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
তবে একই দিন মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আবারও কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, ডেলসি রদ্রিগেজ যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ না করেন, তাহলে তাকে ‘খুব বড় মূল্য’ দিতে হবে—যা মাদুরোর চেয়েও বেশি হতে পারে।




