ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুটি ইউনিয়ন) আসনে জোটগত সমঝোতার অংশ হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ জুনায়েদ আল হাবীবকে মনোনয়ন দিতে সম্মতি জানিয়েছে বিএনপি। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমীন জাহান আক্তার তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।
মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব ২৯ ডিসেম্বর সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। হলফনামায় তার সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি স্বশিক্ষিত এবং ওয়াজ মাহফিল করাকে তার বর্তমান ও পূর্ববর্তী পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন। ওই পেশা থেকে তিনি ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা আয়ের তথ্য প্রদান করেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দায়ের হওয়া ২০টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে, যা বর্তমানে চলমান।
হলফনামায় উল্লেখিত সম্পদ অনুযায়ী তার নগদ অর্থের পরিমাণ ২৮ লাখ ৯৭ হাজার ৪২৩ টাকা। দুটি ব্যাংক হিসাবের মধ্যে রয়েছে আরও ১০ লাখ ১০ হাজার ৯১৬ টাকা। বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট, বাণিজ্যিক স্থান ও অন্যান্য স্থাবর সম্পদ থেকে তিনি বছরে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আয় করছেন। স্বর্ণালংকার রয়েছে ৩৫ ভরি, এবং ৩০ লাখ টাকার একটি গাড়িও তার আছে। রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৪৫ লাখ ৫৪ হাজার ৯০৪ টাকা। এছাড়া তার ৭৯.৭৩ শতাংশ অকৃষি জমির মূল্য দেখানো হয়েছে ৪৯ লাখ ৯০ হাজার ৩০০ টাকা। দুটি বাড়ি এবং একটি ফ্ল্যাটের মূল্য যথাক্রমে ১ কোটি ৫১ লাখ ৭ হাজার ২৬৮ টাকা ও ২৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়ের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ৭ হাজার ৭৭৬ টাকা। মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ২৬ লাখ ৫৫ হাজার ৮৮৮ টাকা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও ২০১৮ সালের সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এ ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মো. মোবারক হোসাইন, এবং জাতীয় পার্টি থেকে সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা এই আসনে নির্বাচন করছেন।




