ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যা লিখে আত্মহত্যা করলেন ববি শিক্ষার্থী

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এক শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে শিক্ষাঙ্গন ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। গোপালগঞ্জের বৌলতলী এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শুভ বৈরাগীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শুভ বৈরাগী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলেন এবং সম্প্রতি তার অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যে গভীর শোক নেমে আসে।

মৃত্যুর আগে গত ১ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে শুভ তার ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনা তুলে ধরেন। ওই পোস্টে তিনি নিজের প্রেমের সম্পর্ক, প্রেমিকার পরিচয় ও ছবি প্রকাশ করেন এবং মৃত্যুর জন্য প্রেমিকা ও তার পরিবারকে দায়ী করেন।

ফেসবুক পোস্টে শুভ দাবি করেন, প্রায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে এক তরুণীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তরুণীর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তিনি ওই তরুণীর বাড়িতে গেলে পরিবারের কয়েকজন সদস্যের দ্বারা শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত হন। তার অভিযোগ, মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে একটি মিথ্যা ভিডিও বানাতে বাধ্য করা হয়, যেখানে তাকে চুরির অপবাদ স্বীকার করতে হয়। এতে তার সামাজিক মর্যাদা ও মানসিক স্থিতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শুভ আরও লেখেন, অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে তার সঙ্গে সম্পর্কটি মেনে নেওয়া হয়নি। এই অপমান, হুমকি ও সামাজিক হেয়প্রতিপন্ন করার ঘটনাগুলোই তাকে চরম মানসিক সংকটে ফেলে দেয়। পোস্টে তিনি সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি এবং সমাজব্যবস্থাকেও দায়ী করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার ঘটনায় আইনি শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. শারমিন আক্তার বলেন, ‘শুভর মৃত্যু আমাদের সবাইকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তার ফেসবুক পোস্টে যেসব অভিযোগ উঠে এসেছে, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কোনো পদক্ষেপ নিতে হলে তা বিবেচনা করা হবে।’

শুভর সহপাঠীরা জানান, তিনি ছিলেন মেধাবী, ভদ্র ও শান্ত প্রকৃতির একজন শিক্ষার্থী। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবরে পুরো ক্যাম্পাসে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী জুলকার নাঈম বলেন, ‘শুভর সঙ্গে যা ঘটেছে, তা শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি সামাজিক অবিচারের প্রতিফলন। আমরা চাই, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হোক এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’

সংবাদটি শেয়ার করুন