ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নতুন বছরে অর্থনীতিতে গতি প্রত্যাশা করেছে ঢাকা চেম্বার

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ২০২৬ সালে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য সময়োপযোগী, কার্যকর এবং দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিসিসিআই উল্লেখ করেছে, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ব্যবসায়িক আস্থা রক্ষা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এমন পরিস্থিতিতে সংস্থাটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনসহ সব রাজনৈতিক পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

ডিসিসিআই মনে করে, নির্বাচনকালীন ও পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দেশীয় উদ্যোক্তা ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে আরও টেকসই করতে সহায়তা করবে।

সংস্থাটি ২০২৬ সালে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করতে কয়েকটি মূল ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ করেছে, যেমন: আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, শিল্পখাতে সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, ব্যবসা পরিচালনা সহজতর করা, ব্যয় হ্রাস, বিনিয়োগবান্ধব অবকাঠামো ও নীতিগত পরিবেশ উন্নয়ন, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ, বিশেষ করে সিএমএসএমই খাতে সহজ ঋণপ্রাপ্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন।

ডিসিসিআই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, চলমান জ্বালানি সংকট ও উচ্চ জ্বালানি মূল্য উৎপাদনশীল শিল্প-কারখানার কার্যক্রম ব্যাহত করছে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের অবস্থান দুর্বল করছে। সংস্থা দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি মূল্য নীতি নির্ধারণ, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, বিকল্প জ্বালানি উৎস এবং দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ চাপ ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে দেশের আর্থিক খাত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ডিসিসিআই প্রয়োজনীয় আমদানি ব্যয় মেটাতে কারেন্সি সোয়াপ ব্যবস্থার প্রবর্তন ও প্রবাসী আয় বাড়াতে কার্যকর প্রণোদনার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি সরকারি ব্যয় ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করলে আর্থিক খাতের তরলতা সংকট কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

ডিসিসিআই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, সরকারি অতিরিক্ত ঋণগ্রহণের কারণে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হতে পারে, যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন, কর আইন আধুনিকায়ন ও নতুন রাজস্ব খাত সৃষ্টি করাসহ বিদ্যমান করদাতাদের হয়রানি এড়িয়ে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে চেম্বার।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় যথাযথ প্রস্তুতির গুরুত্ব আরোপ করে ডিসিসিআই। সংস্থাটি বলেছে, এলডিসি-পরবর্তী সময়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোটের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পাদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজন।

ঢাকা চেম্বার মনে করে, রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ, শিল্প উৎপাদন অব্যাহত রাখা, স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শিল্প সম্প্রসারণ এবং যৌক্তিক কর-শুল্ক সংস্কার দেশীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।

ডিসিসিআই’র মতে, ২০২৬ সালে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, কার্যকর অর্থনীতি ও দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা একসঙ্গে কাজ করা অপরিহার্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন