২০২৫ সাল ইরানের নারী বিজ্ঞানীদের জন্য ছিল বিশেষ বছর। কঠোর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, সীমিত গবেষণা সুযোগ ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও তারা ক্যান্সার, হৃদযন্ত্র পুনর্গঠন, ন্যানোপ্রযুক্তি এবং ভেষজ ওষুধের ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছেন। তাদের কাজ শুধু গবেষণাগারে আটকে থাকেনি; বাস্তব চিকিৎসা, রোগীর জীবনমান এবং ভবিষ্যৎ চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
ড. সেপিদেহ মির্জায়ী-ভারজেগানি ক্যান্সারের ওষুধ প্রতিরোধ ভাঙার নতুন পথ উদ্ভাবন করেছেন। তিনি নন-কোডিং আরএনএ ও NF-κB নিউক্লিয়ার ফ্যাক্টরের সঙ্গে গবেষণা করে দেখিয়েছেন ক্যান্সার কোষকে আবারও চিকিৎসার প্রতি সংবেদনশীল করা সম্ভব। তার কাজ মুসলিম বিশ্বের নোবেলখ্যাত ‘মুস্তাফা (সা.) পুরস্কার’ দ্বারা স্বীকৃত।
ড. সারা পাহলোয়ান হৃদযন্ত্র পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিম হৃদটিস্যু তৈরি করেছেন। মাত্র ১২ দিনে মানব স্টেম সেলের মাধ্যমে তৈরি হৃদযন্ত্র স্পন্দন শুরু করেছে, যা ভবিষ্যতে দাতা অঙ্গের সংকট মোকাবেলায় বড় অগ্রগতি হতে পারে।
ড. বিবি ফাতেমা হাকির-সাদাত ন্যানোবায়োটেক ও ন্যানোমেডিসিনে বিশেষ কাজ করছেন। তিনি ক্যান্সারের নতুন ওষুধ উদ্ভাবন করেছেন, যার বেশিরভাগ পেটেন্ট ইতোমধ্যে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত। তার গবেষণা প্রমাণ করে, ল্যাবরেটরির উদ্ভাবন কিভাবে বাস্তব চিকিৎসা পণ্যে রূপান্তরিত হতে পারে।
ড. মারিয়া বেইহাগি ন্যানো-ভেষজ থেরাপির মাধ্যমে স্নায়ুরোগ, যেমন আলঝাইমার ও পারকিনসন রোগের চিকিৎসায় সম্ভাবনা তৈরি করেছেন। প্রাকৃতিক উপাদানকে ন্যানো-কণায় রূপান্তর করে তিনি খাদ্য সম্পূরক তৈরি করেছেন, যা রোগীদের আচরণগত উন্নতি ও শারীরিক উপকারে কার্যকর।
ড. রোজা রাহিমি ইরানি ভেষজ ওষুধের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতায় বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। তার গবেষণা প্রমাণ করেছে, প্রথাগত চিকিৎসা আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সঙ্গে সমন্বয় করে এগোলে মানবজাতির জন্য কার্যকর উদ্ভাবন সম্ভব।
এই পাঁচ নারীর গল্প আলাদা হলেও বার্তাটি এক—ইরানি নারী বিজ্ঞানীরা আজ বৈশ্বিক বিজ্ঞানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২০২৫ সালে তারা সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করেছেন এবং প্রমাণ করেছেন, অধ্যবসায় ও জ্ঞান থাকলে কোনো প্রতিবন্ধকতা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তারা শুধু বিজ্ঞানী নন; ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।




