বাংলা সাহিত্যের প্রিয় ছড়াকার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সুকুমার বড়ুয়া মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরায় জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মেয়ে অঞ্জনা বড়ুয়া গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘বাবা গত এক সপ্তাহ চট্টগ্রামের একটি মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি ছিলেন। শুক্রবার তাঁকে জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ফুসফুসে পানি জমে যাওয়ায় চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাঁকে বাঁচাতে পারেননি।’
১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সুকুমার বড়ুয়া। ১৯৬০-এর দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৩ সালে তোপখানা রোডে মাত্র ছয় টাকায় একটি বেড়ার ঘর ভাড়া নিয়ে লেখালিখি শুরু করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কিপার হিসেবে অবসরে যান।
প্রায় ৬০ বছর ধরে ছড়া রচনায় নিবেদিত ছিলেন তিনি। তাই তাকে ‘ছড়ারাজ’, ‘ছড়াশিল্পী’, ‘ছড়াসম্রাট’ ইত্যাদি অভিধানে ভূষিত করা হয়েছে। তাঁর ছড়ায় হাস্যরস, ব্যঙ্গাত্মক বার্তা, নৈতিক শিক্ষা ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাজনৈতিক বিষয়বস্তুও ফুটে উঠেছে।
সুকুমার বড়ুয়ার উল্লেখযোগ্য ছড়ার বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘পাগলা ঘোড়া’, ‘ভিজে বেড়াল’, ‘চন্দনা রঞ্জনার ছড়া’, ‘এলোপাতাড়ি’, ‘নানা রঙের দিন’, ‘চিচিং ফাঁক’, ‘কিছু না কিছু’, ‘প্রিয় ছড়া শতক’, ‘নদীর খেলা’, ‘ছোটদের হাট’, ‘মজার পড়া ১০০ ছড়া’, ‘যুক্তবর্ণ’, ‘চন্দনার পাঠশালা’, ‘জীবনের ভেতরে বাইরে’।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৭ সালে সুকুমার বড়ুয়াকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সম্মাননা, অবসর সাহিত্য পুরস্কার, আনন ফাউন্ডেশন আজীবন সম্মাননা, চন্দ্রাবতী শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন।




