ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য বিএনপির শেষ হুঁশিয়ারি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রবণতায় চাপে পড়েছে বিএনপিধানের শীষের পক্ষে দলীয় ঐক্য অটুট রাখতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দলটি

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি বহিষ্কারের সিদ্ধান্তও আসতে পারেএমন ইঙ্গিত দিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতারা। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র গণমাধ্যমকে দেয়া এ তথ্য জানিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, যারা দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন, তাদের বাইরে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে দল অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, দলীয় পদে থেকে যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, তাদের ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কেন্দ্রীয় নেতারা আরও জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় এবং দলের পরীক্ষিত ত্যাগী নেতা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। যাদের দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে, তাদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বোঝানোর। দলের বৃহত্তর স্বার্থে ভোটের মাঠে সবাইকে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবেএর কোনো বিকল্প নেই বলে জানান তারা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া নেতাদের শিগগিরই কেন্দ্রে ডাকা হতে পারে। প্রথমে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হবে এবং দল ক্ষমতায় গেলে বিভিন্নভাবে মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হবে। তাতেও কাজ না হলে দল কঠোর পদক্ষেপ নেবে। প্রয়োজনে বহিষ্কারের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে যারা পদে থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন, তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।

নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ২৯ ডিসেম্বর। তবে ৬০টিরও বেশি আসনে দলীয় পদে থেকে শতাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বর্তমানে রিটার্নিং কর্মকর্তারা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করছেন, যা আগামী রোববার পর্যন্ত চলবেআপিল দায়েরের সময়থেকেজানুয়ারি, আপিল নিষ্পত্তি ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি

এদিকে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় ইতোমধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ ৯ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতদের মধ্যে আরও রয়েছেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম, হাসান মামুন, আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নিরব, সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ।

দলের দায়িত্বশীল নেতারা জানান, মিত্র দলগুলোর জন্য যেসব আসনে ছাড় দেওয়া হয়েছে, সেগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য আসনগুলোতেও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী দাবি করেছেন, মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলেই তারা প্রার্থী হতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের ভাষ্য, দুঃসময়ে তারা দলের পাশে ছিলেন, হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সে কারণে দল শেষ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে নাএমন আশাও প্রকাশ করেছেন তারা। আবার কেউ কেউ জানিয়েছেন, দলীয় শৃঙ্খলা মেনে শেষ পর্যন্ত তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন, তবে তার আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে কথা বলতে চান। তার নির্দেশই তারা চূড়ান্ত বলে মেনে নেবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন