ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাজারজুড়ে শীতের সবজি, দাম কমায় স্বস্তিতে ক্রেতারা

শীত পুরোপুরি জেঁকে বসতেই রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন এক চিত্র। চারদিকে শুধু শীতকালীন সবজির সমাহার, আর সেই সঙ্গে দামেও এসেছে বড় ধরনের স্বস্তি। দীর্ঘদিন পর কম দামে পর্যাপ্ত সবজি পেয়ে স্বস্তির হাসি ফুটেছে সাধারণ মানুষের মুখে। বাজারে এখন সপ্তাহের যেকোনো দিনই লক্ষ্য করা যাচ্ছে বাড়তি ভিড়।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর শ্যামবাজার, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাজারজুড়ে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, গাজর, মুলা, টমেটো, পালংশাক ও লালশাকের প্রচুর সরবরাহ। অধিকাংশ সবজি কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যেই বিক্রি হচ্ছে। কিছু শাকসবজি আরও কম দামে পাওয়া যাচ্ছে, যা স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বাড়তি স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

বর্তমানে ফুলকপি প্রতিটি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকা, শিম কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, গাজর ও মুলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং পালংশাক ও লালশাক প্রতি আঁটি ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা আগের সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

ক্রেতাদের মতে, বছরের অধিকাংশ সময় সবজির উচ্চমূল্য তাদের সংসারের বাজেটে চাপ সৃষ্টি করেছিল। শীত আসার পর সেই চাপ অনেকটাই কমেছে। পুরান ঢাকার বাসিন্দা গৃহিণী মাজেদা বেগম বলেন, আগে অল্প কয়েকটি সবজি কিনতেই ২০০ থেকে ৩০০ টাকা খরচ হতো। এখন সেই টাকায় অনেক বেশি সবজি কেনা যাচ্ছে, রান্নায়ও বৈচিত্র্য এসেছে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী আব্দুল করিম জানান, দাম কম থাকায় এখন নিয়মিত সবজি খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তার মতে, শীতকাল মধ্যবিত্তদের জন্য খানিকটা স্বস্তির সময়।

অন্যদিকে বিক্রেতারাও বলছেন, শীত মৌসুমে মাঠ পর্যায়ে উৎপাদন বাড়ায় সরবরাহ ভালো হচ্ছে। যাত্রাবাড়ীর সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ হোসেন বলেন, কৃষকরা এখন বেশি পরিমাণে সবজি বাজারে পাঠাচ্ছেন। পণ্য বেশি থাকায় দাম কম রাখতে হচ্ছে, তবে বিক্রি ভালো হওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা নেই।

আরেক বিক্রেতা জানান, কম দামে বিক্রি হলেও ক্রেতার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মোট বিক্রি সন্তোষজনক থাকছে। তার ভাষায়, দাম কম থাকলে মানুষ বেশি কেনাকাটা করে, এতে সবজিও অবিক্রীত থাকে না।

বাজার সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং পরিবহন বা সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় কোনো সমস্যা না হলে শীতকালজুড়ে সবজির এই সহনীয় দাম বজায় থাকতে পারে।

সব মিলিয়ে, শীতের আগমনে রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজির ভরপুর সরবরাহ ও তুলনামূলক কম দাম সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে এই ইতিবাচক ধারা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকবে— এমন প্রত্যাশাই করছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন