কিছু বছর হলিউডে কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা বদলায় না, সিনেমার ধারা ও রুচিকেও পাল্টে দেয়। ২০২৬ ঠিক এমন একটি বছর হতে যাচ্ছে। এই বছরে বড় পর্দায় মুখোমুখি হবে নস্টালজিয়া ও ভবিষ্যৎ, সুপারহিরো ও সাহিত্য, মানবিক সংকট ও মহাকাশজুড়ে বিস্তৃত কল্পনা। বছরের শুরু থেকেই মুক্তির তালিকা দেখাচ্ছে—এটি শুধু সিনেমার বছর নয়, হলিউডের আত্মপরীক্ষার সময়।
জানুয়ারিতে মুক্তি পাবে ‘২৮ ইয়ারস লেটার: দ্য ব্রোন টেম্পল’। জম্বি ঘরানার এই সিনেমা কেবল বেঁচে থাকার গল্প নয়, বরং সভ্যতার ধ্বংসস্তূপে মানুষের মানসিক বিকৃতি ও ভয়াবহতা তুলে ধরবে। ফেব্রুয়ারি মাসে সেই ভয়াবহতা বদলে যাবে প্রেমে। ‘উইদারিং হাইটস’-এ মার্গট রবি ও জ্যাকব এলরডির সম্পর্ক শুধু প্রেম নয়; বরং কামনা, ক্ষোভ ও সামাজিক সংঘাতের প্রতিচ্ছবি দেখা যাবে। এমারাল্ড ফেনেলের পরিচালনায় সিনেমাটি নতুন প্রজন্মের কাছে আরও সাহসী ও বিতর্কিত রূপে হাজির হবে।
বসন্তের শুরুতে মুক্তি পাবে ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’, যেখানে রায়ান গসলিংয়ের স্মৃতিভ্রষ্ট মহাকাশচারী পৃথিবী বাঁচানোর দায়িত্ব নেবেন। এটি কেবল সাই-ফাই নয়, মানবজাতির টিকে থাকার এক অন্তরঙ্গ কাহিনি। এপ্রিলে মুক্তি পাবে ‘দ্য ড্রামা’, জেন্ডায়া ও রবার্ট প্যাটিনসনের অভিনয়ে সম্পর্কের ভাঙন ও মানসিক টানাপোড়েন ফুটে উঠবে। একই মাসে ‘রেডি অর নট ২’ আবারও প্রমাণ করবে—হরর আর ব্যঙ্গ একসঙ্গে কতটা নির্মম হতে পারে।
মে মাসে ‘দ্য ডেভিল ওয়্যার্স প্রাডা টু’ মুক্তি পাবে, যেখানে মিরান্ডা প্রিস্টলি নতুন মিডিয়া জগতের সঙ্গে লড়াই করবেন। গ্রীষ্মে মুক্তি পাবে ‘দ্য ম্যান্ডালরিয়ান অ্যান্ড গ্রোগু’ এবং ‘টয় স্টোরি ৫’, যা ডিজিটাল যুগেও তাদের অস্তিত্বের সংকট মনে করিয়ে দেবে। জুনে ‘সুপারগার্ল: ওম্যান অব টুমোরো’ দিয়ে ডিসি ইউনিভার্স শক্ত অবস্থান দেখাবে। জুলাইয়ে আসবে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওসিডি’, হোমারের মহাকাব্যিক অভিযাত্রা মানুষের আত্মসংঘাতের প্রতীক হিসেবে ফুটিয়ে তুলবে। জুলাইয়ের শেষ দিকে ‘স্পাইডারম্যান: ব্রান্ড নিউ ডে’ পিটার পার্কারকে সাধারণ মানুষের কাতারে ফিরিয়ে আনবে।
শরতে মুক্তি পাবে ‘দ্য সোশাল রেকনিং’, যেখানে প্রযুক্তি, সামাজিক মাধ্যম ও ক্ষমতার সংঘাতকে বাস্তব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে দেখানো হবে। ডিসেম্বর মাসে একই দিনে মুক্তি পাবে ‘অ্যাভেঞ্জারর্স: ডুমসডে’ এবং ‘ডুন: পার্ট থ্রি’, যেখানে সুপারহিরোদের মাল্টিভার্স যুদ্ধ এবং পল অ্যাট্রেইডিসের ক্ষমতার ভয়াবহ পরিণতি একসঙ্গে দেখা যাবে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ হলিউডের জন্য এমন এক বছর হতে যাচ্ছে যখন শুধু দর্শক টানা হবে না, সিনেমার গল্প বলার ধরনকেও নতুনভাবে আবিষ্কার করা হবে। আর সেই গল্পের সাক্ষী হবে পুরো বিশ্ব।




