ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২০২৫ সালে শেয়ারবাজারে বড় শেয়ারের অদ্ভুত বৈপরীত্য

২০২৫ সালে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে এক অস্বাভাবিক বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তালিকাভুক্ত অনেক বড় কোম্পানির আয় ও মুনাফা বাড়লেও তার প্রতিফলন দেখা যায়নি শেয়ারের দামে। উল্টো, বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতির কারণে ভালো পারফরম্যান্সের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের প্রকাশিত ‘পারফরম্যান্স রিভিউ ২০২৫’ প্রতিবেদনে এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরো ২০২৫ সালজুড়ে বাজারে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের আশঙ্কা, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, ব্যাংকিং খাতের অনিশ্চয়তা এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানে রাখে। এর ফল হিসেবে বছরের শেষে ডিএসইএক্স সূচক কমেছে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং বাজারের মোট মূলধন হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৯ দশমিক ৯ শতাংশ।

এই সামগ্রিক মন্দার মধ্যেও কিছু কোম্পানি ব্যতিক্রমী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্র্যাক ব্যাংক, যার শেয়ারদর ২০২৫ সালে বেড়েছে ৪৫ শতাংশ। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির মুনাফা ৩৯ শতাংশ বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি হয়। একইভাবে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মারিকো বাংলাদেশ ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ প্রফিট বৃদ্ধির বিপরীতে শেয়ারদরে ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর চিত্র দেখা গেছে কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির ক্ষেত্রে, যেখানে মুনাফা বাড়লেও শেয়ারের দাম কমেছে। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ প্রফিট গ্রোথ অর্জন করলেও তাদের শেয়ারদর কমেছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। রবি আজিয়াটা ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফা বৃদ্ধির পরও শেয়ারদরে কোনো উল্লেখযোগ্য গতি আনতে পারেনি। একইভাবে ওয়ালটন এবং ইউনাইটেড পাওয়ারের মতো বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ারও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে।

অন্যদিকে কিছু হেভিওয়েট কোম্পানির ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক দুর্বলতা সরাসরি শেয়ারদরে বড় ধস নামিয়েছে। গ্রামীণফোনের মুনাফা ২৩ শতাংশ কমার সঙ্গে সঙ্গে শেয়ারদর ২০ শতাংশের বেশি নেমে গেছে। ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবিসি) আরও বড় চাপের মুখে পড়ে; কোম্পানিটির প্রফিট ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমায় শেয়ারদর কমেছে ৩২ দশমিক ৪ শতাংশ। বার্জার পেইন্টসের শেয়ারদরও প্রায় ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সিরামিক ও সাধারণ বীমা খাত বাজারের সামগ্রিক সূচকের তুলনায় ভালো করেছে। বিপরীতে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত ছিল বছরের সবচেয়ে দুর্বল পারফরমার। টেক্সটাইল, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং ওষুধ খাত বাজারের গড় পতনের চেয়ে কিছুটা ভালো অবস্থানে থাকলেও টেলিকম, খাদ্য ও প্রকৌশল খাত পিছিয়ে পড়ে। সামষ্টিক অর্থনীতির কিছু সূচক উন্নতির ইঙ্গিত দিলেও ব্যাংক খাত সংস্কার ও খেলাপি ঋণের ঝুঁকি বিনিয়োগকারীদের এখনো দ্বিধায় রেখেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন