বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজের পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়েছে।
সংসদ ভবনের পাশেই জিয়া উদ্যানে স্বামী ও বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই দাফন করা হয়েছে খালেদা জিয়াকে।
বিকাল সাড়ে চারটার পর তিন বাহিনীর সদস্যদের গার্ড অব অনারের মাধ্যমে দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অসংখ্য মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় খালেদা জিয়ার জানাজা।
দুপুর দুইটায় জানাজার পূর্বনির্ধারিত সময় থাকলেও সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে খালেদা জিয়ার মরদেহ জানাজার জায়গায় আনা হয় বিকেল তিনটার কাছাকাছি সময়ে।
ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউ ছিল জানাজাস্থল। খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকাসহ ঢাকার বাইরে বিভিন্ন দূর দূরান্তের জনপদ থেকে অনেক মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন।
খালেদা জিয়া বিএনপির হাল ধরেছিলেন এমন একটা সময়ে, যখন তার স্বামী, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর কিছু সদস্যের হামলায় নিহত হন। জিয়ার মৃত্যুর পর একদিকে যেমন দিশেহারা তার পরিবার, অন্যদিকে বিপর্যস্ত হয় তারই গড়া রাজনৈতিক দল বিএনপি।
১৯৮১ সালের সেই সময় খালেদা জিয়া ছিলেন একজন গৃহবধু। দুই সন্তানকে নিয়ে তখন ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থান করছিলেন।
কে ধরবে বিএনপির হাল এমন প্রশ্নে খোদ দলের মধ্যে দুইটি ভাগ তৈরি হয়। সেই সময় খালেদা জিয়া রাজনীতিতে যোগ দেন নেতাকর্মীদের আগ্রহে।
১৯৮২ সালের দলের প্রাথমিক সদস্য হওয়ার পর এক বছরের মাথায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন খালেদা জিয়া। ১৯৮৪ সালের নির্বাচিত হন দলীয় চেয়ারপারসন।
সেই থেকে চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
এর মধ্যেই সেনাশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার হটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছেন। ফলে দলের নেতৃত্ব নেওয়ার পর থেকেই মূলত প্রতিকূল এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তখন থেকেই তাকে টানা আন্দোলনের মধ্যে থাকতে হয়েছে।
আন্দোলন সংগ্রামে নেমে বহুবার, জেল বা নির্যাতনেরও স্বীকার হয়েছেন। সত্তরোর্ধ একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে শেষ বয়সে জেলেও জীবন কাটাতে হয়েছে।
রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নানা প্রশ্নে খালেদা জিয়ার অনড় অবস্থান তাকে বাংলাদেশের আপোসহীন নেত্রীর খ্যাতি দিয়েছে।




