ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেষ বিদায়ে নিজ হাতেই মাকে কবরে নামালেন তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। পারিবারিক আবেগ আর রাষ্ট্রীয় মর্যাদার আবহে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজ হাতেই  মাকে কবরে নামান এবং সবার আগে মাটি প্রদান করেন।

বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার পর দাফন কার্যক্রম শেষ হয়। এ সময় তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা কবরস্থানে উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানান। কিছুটা দূরে অবস্থান করেন পরিবারের নারী সদস্যরা—তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান, কন্যা জাইমা রহমানসহ অন্যরা। তারা দোয়া শেষে একটি পাত্রে রাখা মাটিতে স্পর্শ করে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয় স্মরণকালের বৃহৎ জানাজা। বুধবার বিকাল ৩টা ৩ মিনিটে শুরু হওয়া এই জানাজায় লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়; তিল ধারণের জায়গা ছিল না।

জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারা এবং বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বিদেশি কূটনীতিকরাও জানাজায় অংশ নেন।

জানাজা শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, তার মায়ের কারণে কারও মনে কষ্ট থাকলে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং সবার কাছে দোয়া চান। তিনি আরও জানান, খালেদা জিয়ার কোনো দেনা থাকলে তিনি তা পরিশোধ করবেন এবং প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে বলেন।

বায়তুল মোকাররমের খতিব শেখ আব্দুল মালেক জানাজার ইমামতি করেন। শোক, শ্রদ্ধা ও দোয়ায় ঘেরা এই বিদায় পর্বে দেশজুড়ে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া—এক অধ্যায়ের সমাপ্তি আর ইতিহাসে আরেক স্মরণীয় দিনের সাক্ষী হয়ে থাকে রাজধানী।

সংবাদটি শেয়ার করুন