ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত হবে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা’

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি। তার ধারণা, সবকিছু অনুকূলে থাকলে আসন্ন জানুয়ারি মাসের মধ্যেই কিয়েভ ও মস্কো ওই পরিকল্পনায় স্বাক্ষরে পৌঁছাতে পারে।

বুধবার দেওয়া এক ঘোষণায় জেলেনস্কি জানান, গত রোববার ফ্লোরিডায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক বৈঠক ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, রাশিয়া এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রস্তাবিত নথি নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে এবং আগামী জানুয়ারির মধ্যেই একটি সর্বসম্মত চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে যেতে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সুস্পষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দাবি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন এতে সম্মতি দিয়েছে। ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার পঞ্চম দফায় উল্লেখ রয়েছে, যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ১৫ বছর যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রদান করবে।

তবে জেলেনস্কি এই মেয়াদ ১৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫০ বছর করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

মঙ্গলবার দেওয়া এক ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা সংক্রান্ত আলোচনায় দুই দেশের কর্মকর্তারা সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইউক্রেন ও তার নাগরিকদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, ইউক্রেন এই নিশ্চয়তা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেই চেয়েছে। যুদ্ধবিরতির চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে শুধু মার্কিন সেনাবাহিনীর উপস্থিতিই ইউক্রেনে থাকবে।

ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সরবরাহ করবে বলেও জানিয়েছেন জেলেনস্কি।

এ ছাড়া যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেনের পুনর্গঠন নিয়েও কথা বলেন তিনি। জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনের পুনর্গঠনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দেশটির অবকাঠামো ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে।

শেষে জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেনে সাধারণ মানুষের আয় ও জীবনমান উন্নয়নই তাদের প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যার জন্য তিনি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন