ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রবাসীদের ভূমিকা শুধু রেমিট্যান্সে সীমাবদ্ধ নয়: তৌহিদ হোসেন

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান দিন দিন আরও দৃশ্যমান হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, দেশের সংকটময় সময় পার হতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে কাজ করেছে এবং অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের বলরুমে অনুষ্ঠিত ‘এনআরবি গ্লোবাল কনভেনশন–২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ‘এনআরবি ওয়ার্ল্ড’, ‘এনআরবি ফ্যামিলি সাপোর্ট’ ও ‘এনআরবি ক্লাব লিমিটেড’ যৌথভাবে এই কনভেনশনের আয়োজন করে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশ একটি বড় অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সেখান থেকে উত্তরণে গত দেড় বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিকতা বড় সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত শ্রমজীবী প্রবাসীদের নিরলস পরিশ্রমের ফলেই অর্থনীতি অনেকটা স্থিতিশীল অবস্থায় এসেছে।

তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রবাসীদের ভূমিকা শুধু রেমিট্যান্স পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। ব্যবসা ও শিল্পে যুক্ত প্রবাসীরা যদি দেশে বিনিয়োগ করেন, তাহলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে আরও শক্ত ভিত দেবে।

ভারতের উদাহরণ টেনে তৌহিদ হোসেন বলেন, দেশটি প্রবাসী নাগরিকদের দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক লাভবান হয়েছে। বাংলাদেশেও এখন এমন একটি ‘ক্রিটিক্যাল মাস’ তৈরি হয়েছে, যারা চাইলে দেশের উন্নয়নে কার্যকর অনুঘটক হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারেন।

দেশের তরুণদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবে অনেক তরুণ জীবন ঝুঁকিতে ফেলে অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছে। প্রবাসীদের বিনিয়োগে যদি শিল্প, প্রযুক্তি ও সেবাখাতে নতুন সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে এই ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে।

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কম মজুরি পাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। একই ধরনের কাজ করেও অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশি শ্রমিকরা ভারতীয় শ্রমিকদের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ কম বেতন পান। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি দক্ষতা ও শিক্ষার ঘাটতির কথা উল্লেখ করেন।

জাপানের শ্রমবাজারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিলে সেখানে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য একটি সংস্কার কাঠামো তৈরি করে গেছে। নীতিগত ধারাবাহিকতা ও বিনিয়োগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়বে।

সবশেষে তৌহিদ হোসেন বলেন, অবাস্তব প্রত্যাশা নয়, বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। আঞ্চলিক দেশগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রবাসীদের আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা গেলে দেশের অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে আরও মজবুত ভিত্তি পাবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর পল ফ্রস্ট, এনআরবি ওয়ার্ল্ডের সভাপতি আজিজ আহমেদ, আমেরিকা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি গিয়াস আহমেদ, গ্লোবাল এনআরবি চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সম্পাদক হেমি হোসেন, অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ রুবেল, জাপান-বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. শেখ আলিমুজ্জামান এবং দুবাইত রিয়েল এস্টেটের সিইও মমিনুল হক।

সংবাদটি শেয়ার করুন