ঢাকা | শনিবার
৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জয়ের সম্ভাবনা নেই এমন আসন ছাড়তেও অনড় ইসলামী আন্দোলন

নির্বাচনী আসন সমঝোতা নিয়ে উত্তপ্ত অবস্থায় রয়েছে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোবাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীনদলীয় জোট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেতবে আসন বরাদ্দ নিয়ে দলের মধ্যে দ্বিধা দেখা দিয়েছেবিশেষ করে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনবাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জামায়াতের প্রতি নিজের দাবিতে অনড় থাকায় জোটের আসন দরকষাকষায় তৃতীয় পক্ষ হিসেবে এনসিপির যোগদান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, জোটের বড় অংশ আসন সমঝোতার ভিত্তিতেই নির্বাচনে যেতে চায়, তবে এনসিপি অন্তত ৫০টি আসনের দাবি জানিয়েছে।

জানা গেছে, জামায়াত তিন দফা পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে আসন সমঝোতা করছে। তবে কিছু মিত্র এমন আসনের দাবি তুলেছে যেখানে তাদের পরাজয় প্রায় নিশ্চিত, কিন্তু জামায়াতের প্রার্থীরা সেখানে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। জামায়াত নেতারা জানান, প্রার্থীর পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা ভালো থাকলে সেই আসন ছাড়তে তারা রাজি, তবে নিশ্চিত পরাজয়ের আশঙ্কা থাকা আসন ছাড়ার সম্ভাবনা নেই। জামায়াতের এক সূত্র জানায়, তারা দুই শতাধিক আসনে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করবে। এনসিপি ও এবি পার্টিসহ জোটের সব মিত্রকে মিলিয়ে অন্তত ৮০টি আসন ছাড় দেওয়া হবে।

জামায়াতের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ১৫০টির বেশি আসন দল একা নিতে পারবে না। তাই দলগুলোকে সমঝোতার মাধ্যমে আসন ভাগ করতে হবে। চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন ১০০টি আসন চাচ্ছে, আর মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৫টি আসনের দাবি তুলেছে। অন্যদিকে এনসিপির যুক্ত হলে কিছু আসনে ছাড় দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে। নির্বাচনের মাঠে একাধিক দলকে জোটবদ্ধ করার লক্ষ্যেই এই সমঝোতা চলমান।

সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সমঝোতার প্রাথমিক আলোচনায় বসেছেনজোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এখনও চলমান, কিন্তু সব দলই চাই একত্রিতভাবে নির্বাচনে যাওয়া হোক। তবে চরমোনাই পীর ও খেলাফত মজলিসের কিছু দলসম্মানজনক দাবির কারণে শেষ মুহূর্তে সমঝোতায় সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আলাদা জোট গঠনের সম্ভাবনা ও প্রার্থীদের কাঙ্ক্ষিত আসন নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় আছে। ইসলামী আন্দোলনের এক নেতা জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য ১২০টি আসনের সমঝোতা, যা এনসিপি যুক্ত হলে কিছুটা কমে যাবে। খেলাফত মজলিসও অন্তত ৮০ ভাগের আসন নিশ্চিত হলে সম্মানজনক মনে করবে। জোটের অন্যান্য দলেরও আসন চাওয়ার বিষয় আলোচনার মধ্যে আছে।

এদিকে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক মহল থেকেও আসন সমঝোতা নিয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে। জামায়াতের নেতারা জানিয়েছেন, দলগতভাবে সমঝোতা নিশ্চিত করতে চাইলে সবাই মিলিতভাবে অংশগ্রহণ করবে। এনসিপির সঙ্গে সমঝোতা হলে নির্বাচনের মাঠে জুলাইযোদ্ধাদের শক্তি বাড়বে। এভাবে আট দলের মধ্যে আসন সমঝোতার প্রক্রিয়া চলমান, যা সমন্বয় ও দলগত স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষার দিকে এগোচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন