ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে চায় বাম দলগুলোর জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বামপন্থী দলগুলোর বৃহত্তর জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় আড়াইশ আসনে জোটের শরিক দলগুলোর প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। বাকি আসনগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল ব্যক্তি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষদের প্রার্থী করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে সমাজে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরও সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছে জোটটি।

জোটের নেতারা জানিয়েছেন, আসনভিত্তিক সমঝোতা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। রোববারও এ বিষয়ে এক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় আজ সোমবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত আলোচনা চলবে। এরপর মনোনয়ন দাখিলের সময়সীমা শেষ হলে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট তাদের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে।

গত ২৯ নভেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় কনভেনশনের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। ‘আন্দোলন ও নির্বাচন’—এই যুগপৎ লক্ষ্য সামনে রেখে গঠিত জোটটিতে যুক্ত হয়েছে নয়টি বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে বাম গণতান্ত্রিক জোটভুক্ত ছয়টি দল হলো— বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন এবং বাসদ (মার্কসবাদী)। পাশাপাশি বাংলাদেশ জাসদ, ঐক্য ন্যাপ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চার শরিক দলগুলোর মধ্য থেকে বাসদ (মাহবুব) নতুন করে যুক্ত হয়েছে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই যুক্তফ্রন্টের নিবন্ধিত শরিক দলগুলো নিজ নিজ খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। সিপিবি ১১৮টি, বাসদ ১১০টি, বাংলাদেশ জাসদ ৫৭টি এবং বাসদ (মার্কসবাদী) ৩৭টি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। পরে ২০ ডিসেম্বর থেকে এসব তালিকা নিয়ে সমঝোতার আলোচনা শুরু হয়। একাধিক আসনে একাধিক দলের প্রার্থী থাকায় সমঝোতার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ১৪০টি আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। আজকের মধ্যে আরও শতাধিক আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জোটভুক্ত অনিবন্ধিত পাঁচটি দলও সীমিত সংখ্যক আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব প্রার্থী নিবন্ধিত শরিক দলের প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এর মধ্যে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ ১৫টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে।

এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, দলিত ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগঠন, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন থেকেও প্রার্থী বাছাইয়ের চেষ্টা চলছে। এসব সংগঠনের আগ্রহী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও আসন সমঝোতার ভিত্তিতে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত এই সমঝোতা প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানান জোট নেতারা।

আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আজ সোমবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন।

এ বিষয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, চলমান দুর্নীতি ও লুণ্ঠনের রাজনীতির বিকল্প হিসেবে শোষণমুক্ত ও সমতার সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয়েছে। তার ভাষায়, এই ফ্রন্টের নেতৃত্বে বাম প্রগতিশীল সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়ে আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়া হচ্ছে।

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন জানান, প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে নির্বাচন কমিশনের খসড়া তালিকা প্রকাশের পর যুক্তফ্রন্ট তাদের চূড়ান্ত তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে।

বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের ব্যানারে জোটগতভাবেই নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন