ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আবু সাঈদ হ’ত্যার ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ আজও

চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৃতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দেবেন তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। অপর দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এদিন জবানবন্দির শুরুতেই আসামিদের ব্যক্তিগত দায় তুলে ধরার বিষয় রয়েছে। এরপর পুরো ঘটনার বর্ণনা দেবেন তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন। গতকাল (রোববার) তিনি ১৬ আসামির দায় নিয়ে ট্রাইব্যুনালের সামনে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। আজ অবশিষ্ট আসামিদের বিষয়ে সাক্ষ্য সম্পন্ন করবেন। রুহুল আমিনের সাক্ষ্য ২৫ নম্বর হিসেবে রেকর্ড করা হচ্ছে। তার জবানবন্দিতে তিনি তদন্তকালে কোথায়, কবে, কীভাবে ও কী জব্দ করেছেন সকল তথ্য তুলে ধরবেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছিল ১৮ ডিসেম্বর থেকে। পরে গ্রেফতার ও পলাতক আসামিদের আইনজীবীরা তাকে জেরা করবেন।

এর আগে ১০ ডিসেম্বর বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা এবং তদন্ত সংস্থার রেকর্ড সংরক্ষণকারী এসআই মো. কামরুল হোসেন জবানবন্দি দিয়েছেন। মোট ২৫ জনের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। ৯ ডিসেম্বর ২২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের পুরো ঘটনা বর্ণনা করেন এবং সমন্বয়কদের কোথায় রাখা হয়েছিল তা উল্লেখ করে একটি নতুন সেইফ হাউজের কথাও জানান।

মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে ছয়জনএএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ। বাকিরা পলাতক রয়েছেন। ২৭ আগস্ট মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়, সূচনা বক্তব্য দেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে ফর্মাল চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।

এ মামলায় বেরোবির সাবেক ভিসিসহ ২৪ জন এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের পক্ষে ২২ জুলাই সরকারি খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় এবং ২৪ জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়মামলায় মোট সাক্ষীর সংখ্যা ৬২ জন।

সংবাদটি শেয়ার করুন