ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এমন এনসিপির অংশ হবেন না মাহফুজ, যা জানালেন

জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে নির্বাচনকেন্দ্রিক সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পর দলটির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা মাহফুজ আলম। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই জোটের আওতায় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি সে পথে হাঁটছেন না।

রোববার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম জানান, জামায়াত ও এনসিপির যৌথ নির্বাচনী বোঝাপড়ার আওতায় তাঁকেও প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এনসিপির অংশ হওয়া তাঁর জন্য সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত ও এনসিপির সমঝোতার ঘোষণা আসার পর থেকেই দলটির ভেতরে-বাইরে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মাহফুজ আলম ছাড়াও এনসিপির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে দল ছাড়েন বা প্রকাশ্যে আপত্তি জানান।

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সম্মুখসারিতে নেতৃত্ব দেওয়া তিন ছাত্রনেতার একজন ছিলেন মাহফুজ আলম। সে সময় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তরুণদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে ওঠা এনসিপি ও নাগরিক কমিটিতে তাঁর প্রভাব দীর্ঘদিন ধরেই ছিল। তবে এ মাসের শুরুতে উপদেষ্টা পরিষদ ছাড়ার পর থেকেই এনসিপির হয়ে তাঁর নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা চলছিল।

নিজের পোস্টে মাহফুজ আলম লেখেন, নাগরিক কমিটি ও এনসিপি গড়ে উঠেছিল জুলাইয়ের সম্মুখসারির নেতৃত্বে। সেখানে তাঁর সহযোদ্ধারা যুক্ত থাকায় তিনি গত দেড় বছরে নীতিগত পরামর্শ, নির্দেশনা ও সহযোগিতা দিয়ে গেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্পর্ক আর বহাল থাকছে না বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, জামায়াত-এনসিপি জোট থেকে তাঁকে প্রস্তাব দেওয়া হয়নি—এ কথা ঠিক নয়। কিন্তু ঢাকার কোনো আসনে ওই জোটের প্রার্থী হওয়ার চেয়ে নিজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মাহফুজ আলমের ভাষায়, নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক লড়াই, সামাজিক ফ্যাসিবাদ মোকাবিলা এবং দায়বদ্ধ সমাজ গঠনের কথা তিনি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন। এনসিপিকে একটি বৃহৎ ‘জুলাই আম্ব্রেলা’ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করলেও নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশ বর্তমানে এক ধরনের ‘শীতল যুদ্ধের’ সময় পার করছে মন্তব্য করে মাহফুজ বলেন, এই পর্বে কোনো পক্ষ না নিয়ে নিজের নীতি ও বক্তব্যে অটল থাকাই শ্রেয়। তিনি বিশ্বাস করেন, বিকল্প ও মধ্যপন্থী তরুণ বা জুলাই শক্তির সম্ভাবনা এখনও শেষ হয়ে যায়নি।

শেষাংশে মাহফুজ আলম আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গত দেড় বছরে যে আদর্শ ও চিন্তাধারা তিনি তুলে ধরেছেন, তা তিনি রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সব পথে চালিয়ে যাবেন। তাঁর সঙ্গে যারা যুক্ত হতে চান, তাদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, বিকল্প তরুণ জুলাই শক্তির উত্থান খুব দূরে নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন