ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারতে আসেনি ওসমান হাদির হত্যাকারীরা: বিএসএফ

ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই প্রধান সন্দেহভাজনের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের বক্তব্যে স্পষ্ট মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ঢাকার পুলিশ বলছে, তারা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকেছে; তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এই দাবি নাকচ করেছে।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, সন্দেহভাজন ফয়সালসহ আরেকজন ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ছয়জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ আগামী ৭–৮ দিনের মধ্যে মামলার চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অন্যদিকে, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এই তথ্য প্রত্যাখ্যান করেছে। হিন্দুস্তান টাইমস রোববার জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, এ ধরনের প্রতিবেদন বিভ্রান্তি তৈরি করছে।

বিএসএফের মেঘালয় অঞ্চলের মহাপরিদর্শক ওপি উপাধ্যায় বলেন, হালুয়াঘাট সেক্টর দিয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে ওই ব্যক্তিদের মেঘালয়ে প্রবেশের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিএসএফের পক্ষ থেকেও এমন কোনো ঘটনা শনাক্ত বা রিপোর্ট করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

এ ছাড়া মেঘালয় পুলিশ সদর দপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ পুলিশের কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ তারা পাননি। প্রতিবেদনে উল্লেখিত নামের কাউকে গারো পাহাড় এলাকায় পাওয়া যায়নি এবং এ সংক্রান্ত কোনো গ্রেপ্তারও হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকার পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত থাকলেও বর্তমানে সন্দেহভাজনদের মেঘালয়ে অবস্থানের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।

হত্যাকাণ্ডটি ঘটে গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে। মোটরসাইকেলে আসা ফয়সাল করিম ও তার অজ্ঞাত পরিচয় সহযোগী চলন্ত অবস্থায় শরিফকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়, সেখানে ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। পরে শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ২০ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। তদন্ত এগোলেও সীমান্ত পেরোনো প্রশ্নে দুই দেশের ভিন্ন অবস্থান এখনো রহস্যই রয়ে গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন