ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামাতের সাথে জোটে আপত্তি, নাহিদকে এনসিপির ৩০ নেতার চিঠি

জামায়াতে ইসলামীসহ ৮ দলীয় জোটের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্ভাব্য রাজনৈতিক জোট বা আসন সমঝোতা নিয়ে দলটির ভেতরে তীব্র মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন নেতা এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়ে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দায়বদ্ধতা ও দলীয় মূল্যবোধের আলোকে সম্ভাব্য জোট বিষয়ে নীতিগত আপত্তি’ শীর্ষক ওই স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারী নেতারা বলেন, এনসিপির ঘোষিত আদর্শ, গণতান্ত্রিক নৈতিকতা এবং ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থান সাংঘর্ষিক।

শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্মারকলিপির প্রথম স্বাক্ষরকারী ও এনসিপির মিডিয়া সম্পাদক এবং যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির একটি বড় অংশ এই সম্ভাব্য জোট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীসহ ৮ দলীয় জোটের সঙ্গে এনসিপির রাজনৈতিক জোট বা আসন সমঝোতার আলোচনা সামনে আসায় দলীয় কর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে নেতারা স্পষ্টভাবে জামায়াতের সঙ্গে কোনো ধরনের জোটে না যাওয়ার দাবি জানান।

নেতাদের অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গত এক বছরে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির বিভাজনমূলক রাজনীতি, গুপ্তচরবৃত্তি, স্যাবোটেজ, এনসিপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং নারী সদস্যদের চরিত্রহননের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। পাশাপাশি ধর্মকে কেন্দ্র করে সামাজিক ফ্যাসিবাদের উত্থানের আশঙ্কাও তুলে ধরা হয়।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা, গণহত্যায় সহযোগিতা এবং সেই ইতিহাসের বিষয়ে তাদের বর্তমান অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও এনসিপির মূল্যবোধের সঙ্গে মৌলিকভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

এনসিপি নেতারা মনে করেন, একটি গণতান্ত্রিক ও গণঅভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মানবাধিকার, ধর্মীয় সহনশীলতা, নারী-পুরুষের সমান মর্যাদা, সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে আপসহীন থাকা দলের দায়িত্ব। জামায়াতের সঙ্গে জোট হলে এই নৈতিক অবস্থান দুর্বল হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দলের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

চিঠিতে নাহিদ ইসলামকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, তিনি ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অতীতে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন এবং ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ গঠনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ রাজনীতির রূপরেখা তুলে ধরেছেন। এ অবস্থায় সীমিত কিছু আসনের জন্য জোটে যাওয়া জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলেও মন্তব্য করেন তারা।

নেতাদের আশঙ্কা, জামায়াতের সঙ্গে জোটের খবরে মধ্যপন্থী ও নতুন ধারার রাজনীতি প্রত্যাশী সমর্থকদের বড় একটি অংশ এনসিপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে, যা দলের নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডাকে দুর্বল করে দেবে।

স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারী নেতারা দলীয় শৃঙ্খলা ও ঐক্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, নীতিগত অবস্থানের ভিত্তিতেই রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারিত হওয়া উচিত। কৌশলগত স্বার্থে নীতিগত অবস্থান বিসর্জন দিলে এনসিপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে—এমন সতর্কবার্তিই তারা নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দিতে চান।

সংবাদটি শেয়ার করুন