ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কানতারা থেকে টক্সিক: রুক্মিণী বসন্তের দুরন্ত গতির সাফল্য

দক্ষিণ ভারতীয় ছবির জগতে নতুন করে আলো ছড়াচ্ছেন রুক্মিণী বসন্ত। নামের মতোই তাঁর ক্যারিয়ারে এখন উষ্ণ বসন্তের আবহ—আলোচনা, প্রশংসা আর সাফল্যে ভরপুর। অভিনয়ের পরিমিতি আর চরিত্র বাছাইয়ের দৃঢ়তায় খুব অল্প সময়েই তিনি জায়গা করে নিয়েছেন শীর্ষ সারিতে।

এ বছর ‘কানতারা : আ লিজেন্ড—চ্যাপ্টার ১’ ছবিতে কনকাবতীর চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শক-সমালোচক দু’পক্ষেরই নজর কেড়েছে। ছবিটি বক্স অফিসে ব্লকবাস্টার হওয়ার পাশাপাশি রুক্মিণীকেও এনে দিয়েছে তারকাখ্যাতি। শক্তিশালী নারীচরিত্রে তাঁর উপস্থিতি ছবির আবেগী গভীরতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

মাত্র ছয় বছরের ক্যারিয়ারে রুক্মিণীর পথচলা শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালে কন্নড় ছবি ‘বিরবল ট্রিলজি’ দিয়ে। তবে পরিচিতির বড় সিঁড়ি আসে ‘সপ্ত সাগরদাচি এল্লো’ ছবির মাধ্যমে। এই ছবির জন্য ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রী (সমালোচক) পুরস্কার জেতার পরই তাঁর ক্যারিয়ারের গতি বদলে যায়।

এরপর থেকে একের পর এক বড় বাজেটের ও বহুল আলোচিত প্রজেক্টে তাঁকে দেখা যাচ্ছে। শুধু নায়িকা হিসেবেই নয়, গল্পের ভার বহন করা গুরুত্বপূর্ণ নারী চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি ক্রমেই শক্ত হচ্ছে। নতুন বছরে ‘কেজিএফ’ তারকা যশের সঙ্গে ‘টক্সিক’ ছবিতে রুক্মিণীকে দেখার অপেক্ষায় দর্শকরা।

চমকের এখানেই শেষ নয়। ‘কেজিএফ’ নির্মাতা প্রশান্ত নীলের নতুন ছবিতে, যেখানে সহশিল্পী জুনিয়র এনটিআর, সেখানেও থাকছেন রুক্মিণী। পাশাপাশি কিংবদন্তি পরিচালক মণি রত্মমের একটি ছবিতে তাঁর যুক্ত হওয়া ক্যারিয়ারের মাইলফলক বলেই মনে করছেন অনেকে।

অভিনয়ের দর্শন নিয়ে ভ্যারাইটিকে রুক্মিণী বলেন, ছবির ধরন বুঝে অভিনয়ের টোন বদলানোই তাঁর শেখা সবচেয়ে বড় পাঠ। তাঁর ভাষায়, “শান্ত ঘরে যেমন ফিসফিসে কথা মানায়, ট্রেনে থাকলে তেমনটা চলে না—ছবির ঘরানাভেদে অভিনয়ও বদলাতে হয়।”
ব্যক্তিজীবনে শৃঙ্খলা আর শিল্প—দুটোরই প্রভাব পেয়েছেন রুক্মিণী। তাঁর বাবা ছিলেন ভারতের সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, আর মা একজন নৃত্যশিল্পী। অভিনয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েছেন লন্ডনের রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ড্রামাটিক আর্টস থেকে যা তাঁর পরিণত অভিনয়ের ভিত আরও মজবুত করেছে।

সব মিলিয়ে, দক্ষিণী সিনেমার বর্তমান সময়ে রুক্মিণী বসন্ত দাঁড়িয়ে আছেন সাফল্যের এক উজ্জ্বল মোড়ে। সামনে একের পর এক বড় নামের সঙ্গে কাজ আর বৈচিত্র্যময় চরিত্র এই বসন্ত যে আরও দীর্ঘ হবে, সে ইঙ্গিতই দিচ্ছে তাঁর পথচলা।

সংবাদটি শেয়ার করুন