বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় মা ও কিশোরী মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার জোরগাছা ইউনিয়নের শিচারপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় গভীর শোক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
নিহতরা হলেন চায়না খাতুন (৩২) ও তার মেয়ে খাদিজা (১৫)। চায়না খাতুন শিচারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি ও নৈশপ্রহরী কামরুজ্জামানের স্ত্রী। খাদিজা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুমার নামাজ শেষে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফিরে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। বহুক্ষণ ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকলে মা ও মেয়েকে আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়।
খবর পেয়ে সোনাতলা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। নিহতদের স্বজন কামরুজ্জামান জানান, তিনি ঘটনার সময় আত্মীয়ের বাড়ি ভেলুরপাড়ায় ছিলেন। পরে প্রতিবেশীর ফোনে স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর খবর পান। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সদরুল আমীন লিমন বলেন, চায়না ও খাদিজা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেন। আগে কোনো পারিবারিক সমস্যার কথা শোনা যায়নি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তিনি। প্রতিবেশী মৌসুমী বলেন, চায়না ছিলেন শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ। সকালে কাউকেই অস্বাভাবিক মনে হয়নি। এই ঘটনায় পুরো গ্রাম স্তব্ধ।
ওসি মো. কবির হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ দুটি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পারিবারিক কলহ, মানসিক চাপ বা অন্য কোনো বিষয় জড়িত কিনা সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং একটি অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




