কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-দূতাবাসকে ঘিরে ফের উত্তেজনা ছড়াল। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে দীপু দাশ নামে এক হিন্দু যুবক হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে উপ-দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে উপ-দূতাবাস ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়।
শিয়ালদহ স্টেশন চত্বর থেকে গেরুয়া পোশাক পরা সাধু-সন্তদের অংশগ্রহণে একটি মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি উপ-দূতাবাসের দিকে অগ্রসর হলে বেহালা বাগান মোড়ে কলকাতা পুলিশ তা আটকে দেয়। তবে আয়োজকদের দাবি, পুরো কর্মসূচিই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
পরবর্তীতে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। প্রায় আধঘণ্টা ধরে ডেপুটি হাইকমিশনের কার্যালয়ে বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দল বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি জানান, সোমবার থেকে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন, সাধু-সন্ত সমাজ এবং বিজেপির এমপি ও বিধায়করা ডেপুটি হাইকমিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের কাছে আপত্তি, প্রতিবাদ ও দাবি জানিয়ে আসছেন। এদিনও তারা দীপু দাশ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কড়া অবস্থান তুলে ধরেন।
এ সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পুলিশের মাধ্যমে হিন্দুদের ওপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ চালানো হয়েছে। তার দাবি, মঙ্গলবার পুলিশের লাঠিচার্জে ১০ জনের বেশি মানুষ আহত হন; কারও মাথা ফেটে যায়, কারও নাক ভাঙে এবং সাধু-সন্তদেরও মারধর করা হয়।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মোট ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে আগে ৭ জন নারী জামিন পেলেও শুক্রবার ১২ জনকে আদালতে তোলা হয়েছে।
ডেপুটি হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সাক্ষাৎ না হলে ১০ হাজার মানুষ নিয়ে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। পরে সরকারের অনুমতি নিয়ে ডেপুটি হাইকমিশনার তাদের সঙ্গে কথা বলেন। বৈঠকে তারা জানতে চান, দীপু চন্দ্র দাশের অপরাধ কী ছিল। জবাবে জানানো হয়, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত জামিন দেওয়া হবে না এবং নিহতের পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে।
বৈঠক শেষে হুঁশিয়ারির সুরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, গঙ্গাসাগর মেলায় কপিলমুনির আশ্রমে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত সাধু-সন্তদের সমাগম ঘটে। প্রয়োজনে পাঁচ লাখ সাধু-সন্তকে নিয়ে আবারও উপ-দূতাবাসের সামনে আন্দোলন জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু যুবক দীপু দাশ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষোভ আরও তীব্র হচ্ছে। একের পর এক হিন্দু সংগঠন ও সাধু-সন্তদের নেতৃত্বে কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-দূতাবাসের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত মিলেছে।




