নতুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে। শতাধিক আসনে বিএনপির প্রার্থী হওয়ার পথে বাধার কারণে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একাধিক আসনে মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে বিএনপি তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়লে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে বিদ্রোহ প্রতিরোধ করেছিল। কিন্তু এবার একক প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে না; চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচনের জন্য ২০ জানুয়ারি বিকাল ৫টার মধ্যে রিটার্নিং অফিসারকে জানাতে হবে।
বিএনপির প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর তৃণমূল নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। অনেক জায়গায় মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দলীয় কোন্দল দ্রুত সমাধান না হলে নির্বাচনের ফলাফলেও প্রভাব পড়তে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, বিএনপির সরকার গঠনের জন্য এখনই দলীয় ঐক্য ও মাঠের বিরোধ সমাধান জরুরি।
পটুয়াখালী-৩ আসনে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন দলীয় ও স্বতন্ত্র দুইভাবে মনোনয়ন সংগ্রহ করছেন। সাতক্ষীরা-৩ আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন না পাওয়া সাবেক এমপি ডা. শহিদুল আলমও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে যাবেন। ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত না হওয়ায় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজও স্বতন্ত্র প্রার্থিতার সম্ভাবনা দেখছেন।
নোয়াখালী, মাগুরা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সুনামগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঠাকুরগাঁও, হবিগঞ্জ, সিলেট ও গোপালগঞ্জের বিভিন্ন আসনে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে বৈষম্য ও বিরোধ তৈরি হয়েছে। নেতারা বলছেন, দলীয় মনোনয়ন না পেলে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামবেন।
দলের ভিতরে এই বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে নির্বাচনে কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। তৃণমূল নেতাদের অনুরোধ, দলের ঐক্য বজায় রাখতে হলে দ্রুত মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের সঙ্গে সমঝোতা করা জরুরি। না হলে দলীয় প্রচারণা ও নির্বাচনের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।




