ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় সংঘটিত হামলায় শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অংশ হিসেবে আলামতসমূহের ব্যালিস্টিক পরীক্ষা করে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মোহাম্মদ জুনায়েদ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩৩ বছর বয়সী শরিফ ওসমান হাদি ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোড সংলগ্ন ডিআর টাওয়ারের সামনে গুলিবিদ্ধ হন। প্রথমে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
অবস্থার গুরুতরতা বিবেচনা করে তাকে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানকার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ২০ ডিসেম্বর দেশে লাশ এনে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ফায়ার কার্তুজ ও বুলেট সদৃশ আলামতগুলো সিআইডির ব্যালিস্টিক শাখা বিশেষ পুলিশ সুপারকে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হবে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আলামত বিশ্লেষণ অপরিহার্য বলে আদালত মনে করছে।
এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, গুরুতর আঘাত, বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার ও সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে শরিফ ওসমান হাদিকে মোটরসাইকেলে থাকা তিনজন দুষ্কৃতিকারী চলন্ত অবস্থায় গুলি করে পালিয়ে যায়।




