ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনী ব্যয় কমলেই কমবে দুর্নীতি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে নির্বাচন-পরবর্তী দুর্নীতির একটি বড় কারণ হলো অতিরিক্ত নির্বাচনী ব্যয় এমন মন্তব্য করেছেন নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

তাঁর মতে, নির্বাচনকে ঘিরে অস্বাভাবিক ব্যয়ের সংস্কৃতি বন্ধ না হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দুর্নীতি কমানো সম্ভব নয়, কারণ এই ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই চাপানো হয়।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বুধবার ‘নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার: অগ্রগতি পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত এ বৈঠকে নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কারের বর্তমান চিত্র নিয়ে আলোচনা হয়।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নির্বাচনী ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশন উভয়েরই দায়িত্ব থাকলেও বাস্তবে তা যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে সংস্কার প্রক্রিয়া কার্যকর না হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, কমিশন তার ওপর অর্পিত এই অতিরিক্ত দায়িত্ব কতটা দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে পারবে।

তিনি জানান, নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘রিফর্ম ট্র্যাকার’ নামে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে, যেখানে নির্বাচন, দুর্নীতি দমন, গণমাধ্যম ও শ্রমসহ মোট ১৮টি খাতে সংস্কার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নির্বাচন সংক্রান্ত প্রায় ৫০টি নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রস্তাবিত ৩১টি সংস্কারের মধ্যে মাত্র দুটি বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।

বাস্তবায়নাধীন দুটি সংস্কারের মধ্যে একটি হলো জেন্ডার গ্যাপ কমানো এবং অন্যটি নির্বাচনের আগ মুহূর্তে ১৮ বছরে পা রাখা নাগরিকদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ড. দেবপ্রিয় আরও বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচন এখন সংকট উত্তরণের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে। তবে জনগণের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে নির্বাচন আদৌ হবে কি না, আর হলেও সেটি কতটা গ্রহণযোগ্য হবে। কয়টি কেন্দ্র দখল হলে বা কত শতাংশ ভোট পড়লে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে এ ধরনের প্রশ্ন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।

তিনি ‘অংশগ্রহণমূলক’ ও ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ নির্বাচনের ধারণা পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার ওপর গুরুত্ব দেন। এসব পরিভাষার সুস্পষ্ট সংজ্ঞা না থাকলে ভবিষ্যতে নির্বাচনের গুণমান নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন এবং এ বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান প্রত্যাশা করেন।

বৈঠকে সুজনের সম্পাদক ও নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বিচারপতি এম এ মতিন, নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি প্রমুখ। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ফেরাতে দ্রুত ও কার্যকর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন