বিএনপি ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনের ৭টি সহযোগী দলের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার মাধ্যমে মোট ৮টি আসন বণ্টন করেছে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তালিকা প্রকাশ করেন।
তালিকাভুক্ত প্রার্থীরা হলেন: বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, নড়াইল-২ আসনে এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, যশোর-৫ আসনে ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি রশিদ বিন ওয়াক্কাস, পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর, ঝিনাইদহ-৪ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, ঢাকা-১২ আসনে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।
মির্জা ফখরুল বলেন, “যাদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করেছি, তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে যেসব আসনে একমত হয়েছি, সেগুলোতে সমঝোতা করেছি। তবে এই তালিকার পরেও আলোচনা চলবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা জানানো হবে।”
তিনি আরও জানান, কুমিল্লা-৭ আসনে রেদোয়ান আহমেদ এবং ঢাকা-১৩ আসনে এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজকে দেওয়া হয়েছে। রেদোয়ান আজ যোগ দিয়েছেন এবং ববি শিগগিরই বিএনপিতে যোগ দেবেন।
বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেন, “যেসব শরিক দলের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে, তারা নির্দিষ্ট আসনে অংশ নেবেন এবং যারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন, তারা ধানের শীষ প্রতীকে ভোটে লড়বেন।”
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।
২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জন করলেও, ২০১৮ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল, যদিও পুরোপুরি মাঠে কার্যকর থাকতে পারেনি। এতে প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে গেছে এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের ১৫ বছরে নির্যাতিত নেতাদের মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই কারণে আসন সমঝোতা নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বকে সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
শরিক দলগুলোকে সমঝোতা করা আসন ছাড়া অন্য কোনো আসনে প্রার্থী না দেওয়ার শর্তে বিএনপি এ সমঝোতা চাচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়াকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন সেলিম তার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এবং পরে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদাও দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে নির্বাচনে অংশ নিতে চান। প্রার্থিতা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবে বিএনপির ইতিবাচক মনোভাব আছে।
এ পর্যন্ত বিএনপি দুই দফায় ২৭২টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। বাকি ২৮টি আসনের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে শরিকদের আসন নিশ্চিত করা হবে। গতকাল জমিয়তকে চারটি আসন দেওয়া হয়েছে।
তালিকাভুক্ত প্রার্থীরা হলেন: সিলেট-৫ উবায়দুল্লাহ ফারুক, নীলফামারী-১ মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ জুনায়েদ আল হাবিব, নারায়ণগঞ্জ-৪ মনির হোসেন কাসেমী।




