রাঁচিতে অনুষ্ঠিত বিজয় হাজারে ট্রফির প্লেট লিগ ম্যাচে ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়লেন বিহারের হয়ে খেলা বৈভব সূর্যবংশী। অরুণাচল প্রদেশের বিপক্ষে মাত্র ৩৬ বলে সেঞ্চুরি করে তিনি গড়ে ফেলেছেন লিস্ট এ ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ঠ বয়সে শতরানের বিশ্বরেকর্ড।
এতেই থেমে থাকেননি বাঁহাতি এই ওপেনার। একই ইনিংসে তিনি স্পর্শ করেন লিস্ট এ ক্রিকেটে দ্রুততম দেড় শ রানের মাইলফলক, যা ক্রিকেট ইতিহাসে নজিরবিহীন। তবে সেই ইনিংস আরও রঙিন করে তোলেন বিহারের অধিনায়ক সাকিবুল গনি। তিনি খেলেন বিধ্বংসী এক ইনিংস মাত্র ৩২ বলে অপরাজিত সেঞ্চুরি। এটি ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে লিস্ট এ ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড, আর সব মিলিয়ে ইতিহাসের তৃতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি।
ব্যক্তিগত কীর্তির পাশাপাশি দলীয় পর্যায়েও রচিত হয়েছে ইতিহাস। সূর্যবংশী, সাকিবুল ও আয়ুশ লোহারুকা এই তিন সেঞ্চুরির ওপর ভর করে বিহার অরুণাচলের বিপক্ষে তোলে ৫৭৪ রান। লিস্ট এ ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এটাই নতুন বিশ্বরেকর্ড। এর আগে সর্বোচ্চ রান ছিল তামিলনাড়ুর, ২ উইকেটে ৫০৬ রান, যা হয়েছিল ২০২২ সালের বিজয় হাজারে ট্রফিতে, অরুণাচলের বিপক্ষেই।
ভারতীয়দের মধ্যে লিস্ট এ ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির আগের রেকর্ডটি ছিল আনমোলপ্রীত সিংয়ের। তিনি গত বছর একই টুর্নামেন্টে অরুণাচলের বিপক্ষে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। সূর্যবংশীর ৩৬ বলের সেঞ্চুরি শুরুতে ছিল যৌথভাবে চতুর্থ দ্রুততম, তবে ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই সেটি তালিকার ষষ্ঠ স্থানে নেমে যায়। কারণ সাকিবুলের ৩২ বলের সেঞ্চুরির পাশাপাশি এই টুর্নামেন্টেই ইশান কিষান ঝাড়খণ্ডের হয়ে কর্ণাটকের বিপক্ষে করেন ৩৩ বলে সেঞ্চুরি, যা ভারতীয়দের মধ্যে দ্বিতীয় দ্রুততম।
ব্যক্তিগত স্কোরের দিক থেকেও ছিল রানের বন্যা।
সাকিবুল গনি: ৪০ বলে ১২৮ রান*
আয়ুশ লোহারুকা: ৫৬ বলে ১১৬ রান
বৈভব সূর্যবংশী: ৮৪ বলে ১৯০ রান
বিহার তাদের ইনিংসে হাঁকিয়েছে ৩৮টি ছক্কা অর্থাৎ ২২৮ রান এসেছে শুধু ছক্কা থেকেই। অরুণাচলের বোলারদের ওপর যেন এক প্রলয়ঙ্কর ব্যাটিং ঝড় বইয়ে যায় রাঁচির মাঠে।




