ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তুরস্কে বিমান দুর্ঘটনায় লিবিয়ার সেনাপ্রধানসহ ৮ জনের প্রাণহানি

লিবিয়ার শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা মোহাম্মেদ আলি আহমেদ আল-হাদ্দাদ এবং তার সাথে থাকা চারজন কর্মকর্তা তুরস্কের আঙ্কারার কাছে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ ডেবেইবা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি এটিকে ‘মর্মান্তিক দুর্ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটে আঙ্কারা থেকে ত্রিপোলি ফেরার পথে, যেখানে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা এমন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের হারালাম যারা আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমের সঙ্গে লিবিয়াকে সেবা করেছেন। এই দুর্ঘটনা জাতি, সামরিক প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের জন্য এক বড় ক্ষতি।”

দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে আছেন গ্রাউন্ড ফোর্সেস চিফ অফ স্টাফ আল-ফিতৌরি ঘারিবিল, মিলিটারি ম্যানুফ্যাকচারিং অথরিটির পরিচালক মাহমুদ আল-কাতাউই, আল-হাদ্দাদের উপদেষ্টা মুহাম্মদ আল-আসাউই দিয়াব এবং মিলিটারি ফটোগ্রাফার মুহাম্মদ ওমর আহমেদ মাহজুব।

আলজাজিরা জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় তিনজন ক্রু মেম্বারও প্রাণ হারিয়েছেন। দুর্ঘটনার আগে বিমানে বৈদ্যুতিক ত্রুটি দেখা দিলে জরুরি অবতরণের জন্য আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু তারা নিরাপদে নামতে পারেননি।

তুরস্কের প্রেসিডেন্সি কমিউনিকেশন ডিরেক্টরেটের প্রধান বুরহানেত্তিন দুরান জানিয়েছেন, “লিবিয়ার সেনা প্রধান এবং তার সহযোগীরা প্রাইভেট জেট বিমানটিতে আঙ্কারা সফরে এসেছিলেন। ত্রুটির কারণে তারা বিমান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে অবহিত করে জরুরি অবতরণের অনুমতি চেয়েছিলেন।”

তুরস্কের আভ্যন্তরীণ মন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া জানিয়েছেন, বিমানটি আঙ্কারা থেকে ত্রিপোলির উদ্দেশে উড়ার পর দুই কিলোমিটার দূরে কেসিককাভাক গ্রাম সংলগ্ন হায়মানা অঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়।

প্রাথমিক তদন্তে প্রযুক্তিগত ত্রুটি ধরা পড়েছে, তবে কোনো সন্ত্রাস বা আক্রমণের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তুর্কি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

আঙ্কারায় লিবিয়ার কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করার উদ্দেশ্যে আসা এই প্রাইভেট জেট বিমানটি লিবিয়া সরকারের ভাড়া করা ছিল। দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে দেশজুড়ে শোক চলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন