ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ক্ষমতায় যাবে না জামায়াত, তাই ভোট পেছাতে চায়

সম্প্রতি খালেদ মুহিউদ্দীনের একটি টকশোতে নূরুল কবীর মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াত ইসলামীর বর্তমান কর্মকাণ্ড থেকে বোঝা যায় তারা দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া পেছানোর চেষ্টা করছে। কারণ তারা জানে, এই মুহূর্তে ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, “যেহেতু সরকারের মধ্যে কিছু ডানপন্থী মন্ত্রী ও প্রশাসনের লোক তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল, তাই জামায়াত নিজেদের সুবিধা ধরে রাখার জন্য এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার জন্য সময় চাইছে। নির্বাচনের দীর্ঘসূত্রিতাই তাদের লক্ষ্য।”

নূরুল কবীর আরও বলেন, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে বৃহত্তর অংশ এখনও জামায়াতের মতো রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। ফলে ক্ষমতায় যেতে পারার সম্ভাবনা না থাকায় তারা অন্য কৌশল অবলম্বন করছে। তিনি বলেন, “যতদিন তারা প্রশাসনের সুবিধা নিতে পারবে, ততদিন তারা সময় চাইবে।”

অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে নূরুল কবীর মন্তব্য করেন, “যেসব মানুষ সরকারের নেতৃত্বে আছেন তাদের দেশপ্রেমে কোনো প্রশ্ন নেই, কিন্তু রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার অভাব স্পষ্ট। যারা বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে সংস্কার সাধনের চেষ্টা করেছে, তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা রাখে না। তাই আজকের যে ব্যর্থতাগুলো আমরা দেখি, তার মূল কারণ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অভাব এবং দিকনির্দেশনার অভাব।”

ড. ইউনূসের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ক্ষমতায় আসার পর গ্রামীণ সম্পর্কিত সমস্যাগুলো সমাধানে যে তৎপরতা দেখানো হলো, তা যথাযথ হয়নি। একজন প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব হলো সবার দায়িত্ব শেষ করে নিজের দায়িত্ব গ্রহণ করা। এ বিষয়ে তার দীর্ঘদিনের প্রতিক্রিয়া থাকবে।” তিনি বলেন, “এই সরকারের প্রধান সমস্যা হলো রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার অভাব এবং নন-পলিটিক্যাল মাইন্ডস নিয়ে সরকারের গঠন। এই সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় একটি সংবেদনশীল, রাজনীতি সচেতন সরকার থাকা উচিত ছিল, যা হয়নি। ফলে আমরা আজ তার প্রভাব বহন করছি।”

নিজের ওপর হামলার প্রসঙ্গে নূরুল কবীর বলেন, “যেদিন আমাকে আক্রমণ করা হয়, সেখানে শিবিরের লোকরা ছিল। সরকার আমাকে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছে, কিন্তু আমি সেটা করিনি। এটি ব্যক্তিগত নয়; আমি একটি সংগঠিত অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে কথা বলব এবং লিখব।” তিনি আরও বলেন, “জামায়াত রাজনৈতিকভাবে আমার বিরোধী হলেও ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো শত্রুতা নেই। তারা আমাকে আওয়ামী লীগ বলেই আক্রমণ করেছে, যা তাদের মুনাফেকি চরিত্র প্রকাশ করে।”

নূরুল কবীর বলেন, জামায়াতে ইসলামী নিয়ে তার তিনটি অভিযোগ ররেছে। প্রথম, ঐতিহাসিকভাবে তারা মুখে এক কথা বলে, কিন্তু কাজ অন্যরকম করে। দ্বিতীয়, তারা ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ইসলাম ধর্ম বিকশিত হয়েছে জনস্বার্থের প্রতি বিশ্বস্ততা থেকে; বিশেষ করে জুলুম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে, নিপীড়িত মানুষের পক্ষে অবস্থান নিলে। কিন্তু জামায়াত ইসলাম ও প্রকৃত ইসলাম এক নয়। অনেক বিশিষ্ট আলেমও বলেছেন, জামায়াত ইসলামী মূলনীতি থেকে ইসলামকে দূরে সরানোর চেষ্টা করছে।

তিনি জানান, জামায়াতের লোকেরা দাবি করে যে তারা ভোটের সময় ধর্ম ব্যবহার করে না। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন রেকর্ডে দেখা যায়, তারা বেহেশত-দোজখের ভয় দেখিয়ে ভোটের ক্ষেত্রে ধর্মের কথা বলছে।

নূরুল কবীর বলেন, আওয়ামী লীগ বা বিএনপি সবাই ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করেছে। কিন্তু এতে শুধু ধর্মের ক্ষতি হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিকাশে বাধা এসেছে। জামায়াত চেষ্টা করছে ইসলামকে তাদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখাতে, যা সত্য নয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি শাসকরা জালেম ছিল। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। তারা নিরস্ত্র মানুষের ওপর হত্যা, আগুন, ধর্ষণ চালানো মানুষদের পক্ষে ছিল। এমন অবস্থায় তারা কিভাবে নিজেদের ইসলামের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে দেখাতে পারে?

নূরুল কবীর বলেন, জামায়াত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ত্রুটির ওপরে হাইপ তৈরি করতে চেয়েছে। সত্যি বলতে, এই দলগুলো মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। কিন্তু এই বিকল্প হিসেবে জামায়াতকে দেখা যায় না। তারা ১৯৭১ সালে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরীক্ষায় ফেল করেছে, বিপদের সময় বিপদাপন্ন মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে বিপদের পক্ষে ছিল।

সংবাদটি শেয়ার করুন