ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে আর অবনতি হবে না

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখনো চরম অবনতির পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তার মতে, নানা আলোচনা ও বক্তব্যের কারণে বাইরে থেকে পরিস্থিতি যতটা খারাপ মনে হচ্ছে, বাস্তবে তা ততটা গুরুতর নয়। সরকার কূটনৈতিকভাবে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থ উপদেষ্টা জানান, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিষয় আলাদা করে দেখা উচিত।

তিনি বলেন, কূটনৈতিক অঙ্গনে কিছু সংবেদনশীল ইস্যু বা বক্তব্য থাকলেও অর্থনৈতিক স্বার্থে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ভারত থেকে ৫০ হাজার টন চাল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এই আমদানিতে বাংলাদেশ লাভবান হয়েছে, কারণ ভিয়েতনাম থেকে চাল কিনলে প্রতি কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেশি খরচ হতো।

অর্থ উপদেষ্টা আরও জানান, কিছুটা বিলম্ব হলেও ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা কাজ করছেন এবং তিনি নিজেও ভারতের হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ভারতীয় পক্ষ থেকেও সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বাইরে নানা গুঞ্জন বা বক্তব্য শোনা গেলেও বাস্তব পরিস্থিতি এতটা খারাপ নয়। তবে কিছু বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে, যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।

জনগণ বা বহিরাগত শক্তির ভারতবিরোধী বক্তব্য প্রসঙ্গে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এসব মন্তব্য বাংলাদেশের জাতীয় অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না এবং এগুলো অপ্রয়োজনীয় জটিলতা সৃষ্টি করছে।

অর্থ উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কোনো বিরোধ চায় না। বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতায় বিশ্বাসী এবং ভারত, ভুটান, নেপাল ও পাকিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। প্রধান উপদেষ্টা সরাসরি ভারতের সঙ্গে কথা না বললেও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ে আরও আলোচনায় এসেছে। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে চট্টগ্রামে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। এর আগে ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহীতেও আংশিকভাবে ভিসা কার্যক্রম স্থগিত ছিল। পাশাপাশি নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ ঘিরে দুই দেশের ভিন্ন বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন