ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রোকারেজ হাউজের সদস্যপদ বাতিল করল ডিএসই

দেশের শেয়ারবাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এরই ধারাবাহিকতায় নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে সদস্য প্রতিষ্ঠান এসকিউ ব্রোকারেজ হাউস লিমিটেডের ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট বা ‘ট্রেক’ বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির ট্রেক নম্বর ছিল ৩০৮, যা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্ধারিত আইন অমান্য করার কারণে এখন থেকে কার্যকর থাকছে না।

ডিএসইর দেওয়া তথ্যমতে, এসকিউ ব্রোকারেজ হাউস লিমিটেড বিএসইসির ২০২০ সালের ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট বিধিমালার ৭(১) ধারাটি চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে। এই বিধির আওতায় যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠানটির ইস্যুকৃত ট্রেকটি একই বিধিমালার ৭(৩) ধারা অনুযায়ী বাতিল করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, বিএসইসি থেকে স্টক ডিলার ও স্টক ব্রোকার হিসেবে চূড়ান্ত নিবন্ধন সনদ পাওয়ার পরও একটি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।

নিয়ম অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে ব্রোকারেজ কার্যক্রম পরিচালনার লাইসেন্স পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লেনদেন বা বাণিজ্যিক তৎপরতা শুরু করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এসকিউ ব্রোকারেজ হাউস এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের ট্রেডিং রাইট বাতিলের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মূলত বাজারে নিষ্ক্রিয় ও অকার্যকর ব্রোকারেজ হাউসের ভিড় কমাতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই ডিএসই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, লাইসেন্স পাওয়ার পরও কাজ শুরু না করা প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থার সংকট তৈরি করে। এই ধরনের অকার্যকর প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ বাতিল করা হলে বাজারে শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং সত্যিকারের সক্রিয় ব্রোকারেজ হাউসের জন্য পথ সুগম হয়। ডিএসইর এই পদক্ষেপ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা এবং বাজারের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

ভবিষ্যতে যারা নতুন ব্রোকারেজ হাউসের নিবন্ধন পাবেন, তাদের জন্য ডিএসইর এই সিদ্ধান্ত একটি কড়া সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে শুধু সনদ অর্জনই যথেষ্ট নয়, বরং নিয়মিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমেই সদস্যপদ টিকিয়ে রাখতে হবে। বাজারের সার্বিক উন্নয়নে এমন কঠোর তদারকি ও তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন