ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নতুন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হতে পারেন খলিলুর রহমান!

অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিকে কেন্দ্র করে সরকারের ভেতরে বড় ধরনের রদবদলের আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। তার জায়গায় নতুন মুখ হিসেবে আসছেন বর্তমান নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, এমন আলোচনা চলছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।

উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদে রদবদল হতে পারে। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে বড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্প্রতি জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে না পারাকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হতে থাকে।

এই অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে নতুন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে। তবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী পুরোপুরি উপদেষ্টা পরিষদ থেকে বাদ পড়ছেন না; তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন।

এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখশ চৌধুরীকেও তার বর্তমান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আলোচনা রয়েছে।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। প্রথম দফায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন। তবে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন সংক্রান্ত মন্তব্যের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এরপর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। যদিও তার বিরুদ্ধে বড় কোনো অভিযোগ ছিল না, তবে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে আলু-পেঁয়াজের দাম নিয়ে কথা বলায় সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

পরবর্তীতে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, অনুষ্ঠানটি ছিল কৃষিবিষয়ক এবং তিনি কৃষি উপদেষ্টা হিসেবেই উত্তর দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সেখানে বক্তব্য দেবেন না বলেও জানান। তবুও এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইনকিলাব মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠন তার পদত্যাগ দাবি করে এবং আলটিমেটাম দেয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবরই দেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল দায়িত্বগুলোর একটি। অতীতে আওয়ামী লীগের টানা চার মেয়াদে আসাদুজ্জামান খান কামাল দীর্ঘ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সতর্ক বক্তব্যের জন্য পরিচিত হলেও নানা সময়ে তাকেও বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের এই সম্ভাব্য রদবদল কতটা কার্যকর হবে তা নিয়েই এখন সবার দৃষ্টি।

সংবাদটি শেয়ার করুন