ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাদি হত্যাকাণ্ড: কবিরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে। মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কবিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদের আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ এই আদেশ দেন।

এর আগে সাত দিনের রিমান্ড শেষে কবিরকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার অগ্রগতি এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধারের স্বার্থে তদন্ত কর্মকর্তা পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের পরিবর্তে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ সময় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, ১৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে র‍্যাব কবিরকে আটক করে। পরে ১৬ ডিসেম্বর আদালতের মাধ্যমে তাকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেন শরিফ ওসমান হাদি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলযোগে আসা দুষ্কৃতকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর গুলির ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় হত্যাচেষ্টা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার করে গুরুতর জখম এবং দুষ্কর্মে সহায়তার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার পেছনের নেটওয়ার্ক উন্মোচনে আরও অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন