ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারত থেকে সরে পাকিস্তানের দিকে যুক্তরাষ্ট্র

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অবস্থান। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন টাইমস জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান সাম্প্রতিক সামরিক সংঘর্ষের পর ওয়াশিংটনের নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গিতে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে, যেখানে পাকিস্তান নতুন করে কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে অনুসৃত যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘ভারত প্রথম নীতি’ কার্যত পরিত্যক্ত হয়েছে। এর পরিবর্তে ইসলামাবাদ এখন ওয়াশিংটনের দক্ষিণ এশিয়া কৌশলের কেন্দ্রে উঠে আসছে। এমনকি ২০২৫ সালকে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কের জন্য ‘বৈপ্লবিক মোড়’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

ওয়াশিংটন টাইমস জানায়, এক সময় পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্র একটি অনির্ভরযোগ্য ও সমস্যাসঙ্কুল মিত্র হিসেবে দেখলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসন দেশটিকে দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের নীতির গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করছে।

এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে চলতি বছরের মে মাসে সংঘটিত ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘর্ষ। জম্মু ও কাশ্মিরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত পাকিস্তানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর পাল্টা জবাবে পাকিস্তানও সামরিক অভিযান শুরু করে। টানা চারদিনের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সংঘর্ষে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা, কৌশলগত পরিকল্পনা ও সামরিক সক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিস্মিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা ছিল, ভারতের তুলনায় পাকিস্তানের সামরিক শক্তি অনেকটাই পিছিয়ে।

আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের শুরুতেও ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে পাকিস্তান ছিল কূটনৈতিকভাবে কোণঠাসা, রাজনৈতিকভাবে অনিশ্চিত এবং তালেবান-সংশ্লিষ্ট একটি রাষ্ট্র। কিন্তু বছরের শেষ নাগাদ সেই ধারণা আমূল বদলে যায়।

প্রতিবেদনটির উপসংহারে বলা হয়েছে, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হয়েছে, যা মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত পরিবর্তনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন