রাজনীতিক, জুলাই যোদ্ধা এবং সাংবাদিকসহ ২০ জনকে নিরাপত্তার স্বার্থে গানম্যান প্রদান করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ডিজিএফআই, এনএসআই ও এসবির ঝুঁকির তালিকার ভিত্তিতে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সোমবার আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৮তম সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার সম্পাদকসহ ২০ জনের বাসা ও অফিসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব পত্রিকায় হামলার ঘটনায় ১৭ জনকে ডিএমপি গ্রেফতার করেছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের যোদ্ধা শহীদ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। ইতিমধ্যে ১০ জনকে যৌথ বাহিনী গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে হত্যাকারী ফয়সাল করিমের স্ত্রী, মা-বাবা, শ্যালক ও মোটরসাইকেল মালিক রয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য উপকরণও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মূল হোতা ফয়সাল করিম মাসুদকে শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা হলেও হত্যার মোটিভ ও কিছু তথ্য গোপন রাখার কারণে বিস্তারিত এখন বলা সম্ভব নয়।
গানম্যান এবং অস্ত্র লাইসেন্সের জন্য ১৫ জন রাজনীতিক এবং ২৫ জন সরকারি কর্মকর্তা আবেদন করেছেন। আবেদনকারীদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সম্ভাব্য সংসদ প্রার্থী ও ধর্মীয় নেতারা রয়েছেন। এছাড়া সরকারী নিরাপত্তা উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেভিল হান্ট ফেজ-২ অভিযানে ৬৫৯৮ জনকে গ্রেফতার, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, বড়দিন ও থার্টিফার্স্ট নাইটে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যাতে ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়। গুলশান, বনানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য চেকপোস্ট স্থাপন, টহল ও তল্লাশি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ডিএমপি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নগরীতে সিসিটিভি মনিটরিং, স্ট্যান্ডবাই বাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এছাড়া ময়মনসিংহে পোশাক শ্রমিক হত্যা ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।




