নির্বাচনের প্রচারণায় এবার প্রথমবারের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার এবং এক টেলিভিশন সংলাপের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল ঘোষণার পর কমিশন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ শুরু করেছে এবং আচরণবিধি ভাঙার কারণে বিভিন্ন প্রার্থীর বিরুদ্ধে জরিমানা করেছে।
নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, যে কেউ আচরণবিধি ভাঙলে কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। গত বছরের নভেম্বরে চূড়ান্ত হওয়া ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি‘ অনুযায়ী নতুন নিয়মে পোস্টারের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে। তবে প্রার্থীরা লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহার করতে পারবে, কিন্তু কোনো পোস্টার দালান, গাছ, বেড়া বা যানবাহনে লাগানো যাবে না। এছাড়া, নির্বাচনী প্রচারণায় দলীয় প্রধান ছাড়া অন্য কারো ছবি ব্যবহার করা যাবে না।
প্রচার কার্যক্রমে যানবাহনের ব্যবহারও সীমিত করা হয়েছে। কোনো বাস, ট্রাক, নৌযান বা মোটরসাইকেল নিয়ে মিছিল, জনসভা বা শোডাউন করা যাবে না। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় কোনো ধরনের মিছিল বা শোডাউন করা নিষিদ্ধ। হেলিকপ্টার বা আকাশযান ব্যবহারের ক্ষেত্রেও শুধু দলীয় প্রধান ও সাধারণ সম্পাদকই সীমাবদ্ধ থাকবেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নতুন বিধি সংযোজন করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা দলের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা শুরুর আগে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অ্যাকাউন্ট ও শনাক্তকরণ তথ্য জমা দিতে হবে। এছাড়া, ঘৃণা, বিদ্বেষ, ভুল তথ্য, মানহানিকর বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো শিথিলতা থাকবে না।
এছাড়া, ঢাকায় পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মাকে তলব করেছেন। বৈঠকে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে এবং ভারতে পালিয়ে যাওয়া হামলাকারীদের বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এটি প্রণয় ভার্মার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলবের দ্বিতীয় ঘটনা, যেখানে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অব্যাহত উসকানিমূলক বক্তব্যের বিষয়ও আলোচনা করা হয়েছে।




