বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট। তার মতে, ভবিষ্যতে চীন যদি তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে সেই সুযোগে রাশিয়া ইউরোপকে অস্থিতিশীল রাখতে সক্রিয় হতে পারে।
জার্মানির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম বিআইএলডিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুট বলেন, বেইজিং ও মস্কোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট যে কোনো বড় উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর পড়তে পারে।
তার ভাষায়, চীন তাইওয়ানের দিকে গভীরভাবে নজর রাখছে। যদি বেইজিং সেখানে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে যাতে ইউরোপে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং ন্যাটো অন্যত্র মনোযোগ দিতে বাধ্য হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর প্রতিরোধ সক্ষমতা দ্রুত জোরদার করার আহ্বান জানান রুট। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাশিয়া বিপুল ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার করতেও প্রস্তুত এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা তারা এখনও ধরে রেখেছে।
রুট আরও দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন প্রয়োজনে নিজের দেশের প্রায় ১১ লাখ মানুষকে উৎসর্গ করতেও পিছপা হবেন না। যদিও চলতি বছরে রাশিয়ার অগ্রগতি খুবই সীমিত—ইউক্রেনে তারা শুরুর সময়ের তুলনায় মোট ভূখণ্ডের এক শতাংশেরও কম দখল করতে পেরেছে।
তিনি বলেন, যদি রাশিয়া পুরো ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়, তাহলে ন্যাটোর জন্য এর প্রভাব হবে মারাত্মক। সেক্ষেত্রে হেগে যে ব্যয় কাঠামো নিয়ে জোট একমত হয়েছিল, তার চেয়েও অনেক বেশি মূল্য দিতে হবে।
ইউক্রেনে সম্ভাব্য সৈন্য পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান রুট। ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
উল্লেখ্য, চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে এবং দ্বীপটি দখলে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও কখনো নাকচ করেনি। পাশাপাশি দক্ষিণ চীন সাগরের অধিকাংশ এলাকা নিজেদের বলে দাবি করায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বেইজিংয়ের বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।




