জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠন ‘শ্রমিকশক্তি’র এক নেতাকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে খুলনা নগরীতে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, হামলায় জড়িতরা তারই পরিচিত হতে পারে। সোমবার সকাল ১১টার দিকে নগরীর গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশের আল আকসা মসজিদ সড়কের মুক্তা হাউজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, গুলিটি মোতালেব শিকদারের মাথার চামড়া ছুঁয়ে বেরিয়ে যায়। এতে রক্তক্ষরণ হলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান। আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী তিনি এখন শঙ্কামুক্ত।
গুলিবিদ্ধ মোতালেব শিকদার পেশায় ট্রাকচালক। তিনি খুলনা বিভাগের ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য এবং এনসিপির শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক ও খুলনা বিভাগীয় কমিটির আহ্বায়ক। তার বাড়ি নগরীর পল্লীমঙ্গল স্কুলের পাশে; বাবার নাম মুসলিম শিকদার। এর আগে ২০২২ সালে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্যানেল থেকে সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর কিছুদিন নিষ্ক্রিয় থাকলেও গত সেপ্টেম্বরে এনসিপিতে যোগ দেন।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আল আকসা মসজিদ সড়কের মুখে একটি নীল রঙের প্রাইভেটকার দাঁড়ানো ছিল। গাড়িটিতে এনসিপি ও শ্রমিকশক্তির বিভাগীয় আহ্বায়ক পরিচয়সংবলিত বড় স্টিকার লাগানো। স্থানীয়দের ভাষ্য, গাড়িটি আগের রাত থেকেই গলির মুখে ছিল।
প্রধান সড়ক থেকে প্রায় ৪০০ ফুট ভেতরে ‘মুক্তা হাউজ’ নামের বাড়িটি অবস্থিত এবং এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ। ওই বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ১০টা ৫৯ মিনিটে এক যুবক মোতালেবকে মাথা ধরে দ্রুত প্রধান সড়কের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।
খুলনা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের তথ্য ও আশপাশের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাতে মোতালেব তার দুই সহযোগীসহ একটি গাড়ি নিয়ে ওই এলাকায় যান। কী কারণে গুলি করা হয়েছে এবং কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সোনাডাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) অনিমেষ মণ্ডল বলেন, ঘটনার পর একজন নারী পলাতক রয়েছেন। আলামত হিসেবে মোতালেবের ব্যবহৃত গাড়ি জব্দ করা হয়েছে এবং জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে। তিনি আরও জানান, নিজেদের মধ্যে বিরোধ থেকেই পরিচিত ব্যক্তিরা হামলা চালিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে এনসিপির খুলনা জেলা সমন্বয়কারী মাহমুদুল হাসান ফয়জুল্লাহ বলেন, বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে; দলীয়ভাবে তারা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্তব্য করতে চান না।




