দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও ইতিহাস গড়ল দাম। সব ধরনের পূর্বানুমান আর কল্পনাকে ছাপিয়ে নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে স্বর্ণের মূল্য। টানা মূল্যবৃদ্ধিতে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের আরও বাইরে চলে গেল এই মহামূল্যবান ধাতু। সর্বশেষ দফা দাম বৃদ্ধির ফলে এখন ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে গুনতে হচ্ছে ২ লাখ ১৮ হাজার টাকারও বেশি।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষিত নতুন দর আজ সোমবার (২২ ডিসেম্বর) ভোর থেকেই সারাদেশে কার্যকর হয়েছে। ফলে আজ থেকেই স্বর্ণালঙ্কার কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
রেকর্ড গড়া নতুন মূল্যতালিকা
বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণ বা খাঁটি সোনার সরবরাহ সংকট এবং দাম বৃদ্ধির কারণেই নতুন করে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। গত রোববার বিকেলে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই নতুন দর চূড়ান্ত করা হয়।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী-
২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
কেন বাড়ছে স্বর্ণের দাম?
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের স্থানীয় বাজারে পাকা সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, এই সিদ্ধান্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে আজ থেকেই কার্যকর থাকবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই দরই বহাল থাকবে।
ডিসেম্বরজুড়ে রেকর্ড ভাঙার গল্প
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস স্বর্ণবাজারের জন্য একেবারেই ব্যতিক্রমী। চলতি মাসেই একাধিকবার দাম বেড়েছে। এর আগে গত ১৬ ডিসেম্বর প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৪৭০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তারও আগে অক্টোবর মাসে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ উঠেছিল ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকায়।
এছাড়া ১২ ও ১৪ ডিসেম্বরও বড় ব্যবধানে দাম বাড়ানো হয়েছিল। ধারাবাহিক এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিয়ে ও উৎসবের মৌসুমে স্বর্ণ কেনা নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা।




