ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রথম আলো অফিসে হামলা : ৪০০-৫০০ অজ্ঞাতনামা আসামি

প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজার থানায় এই মামলা করা হয়েছে।

মামলাটি দায়ের করেছেন প্রথম আলোর হেড অব সিকিউরিটি মেজর (অব.) মো. সাজ্জাদুল কবির। মামলা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে অফিসে প্রবেশ করে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সন্ত্রাসীরা প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা অফিসের ভেতরের সম্পত্তি ধ্বংসের পাশাপাশি নগদ অর্থ, গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র ও যন্ত্রপাতি লুট করে। এ ঘটনায় কার্যালয়টি ভাঙচুরের পাশাপাশি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

মামলায় বলা হয়েছে, হামলাকারীদের সনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত শুরু করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি তদন্তে গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও যুক্ত রয়েছেন। ঘটনা পরিকল্পিত এবং সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সংগঠিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মেজর (অব.) সাজ্জাদুল কবির বলেন, “আমরা চাই যে যারা এই নাশকতা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এই হামলা শুধু প্রথম আলোকে নয়, পুরো সংবাদমাধ্যমে ভয় সৃষ্টি করতে চেয়েছে।”

প্রথম আলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “এ ধরনের হামলা আমাদের পেশাদার সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। আমরা আশা করি, আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলেছে, আহত বা ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং পুড়ে যাওয়া কার্যালয়ের ক্ষতি নিরুপণ ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা হবে।

অত্যন্ত বড় পরিসরের এই হামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করেছেন এবং ভিডিও ফুটেজ, সাক্ষী বিবৃতি ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্তকরণের চেষ্টা চলছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথম আলোর কার্যালয়ে প্রবেশের আগে কাছাকাছি এলাকা পর্যবেক্ষণ করেছে এবং পরিকল্পিতভাবে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন নাশকতার ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

প্রথম আলোসহ দেশের অন্যান্য গণমাধ্যম এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অপরিহার্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন