ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাদিকে হত্যা: প্রধান আসামির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মোহাম্মদ জুনায়েদের আদালত এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান।

এদিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, গোপন সূত্রে জানা গেছে—এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ যেকোনো সময় দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন। এজন্য স্থল, নৌ ও বিমানবন্দর ব্যবহার করে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে আটক করতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলাটি করেন।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তারা হলেন—ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্টকার ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সহযোগী মো. কবির এবং ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম। এর মধ্যে হুমায়ুন কবির ও হাসি বেগম আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

রিমান্ড শেষে নুরুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিরা বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে রওনা হন শরিফ ওসমান হাদি। দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন