ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডিসেম্বরে রেমিট্যান্সে সুবাতাস, ২০ দিনেই ২১৭ কোটি ডলার

চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে স্পষ্ট গতি দেখা গেছে। মাসের প্রথম ২০ দিনেই দেশে এসেছে ২১৭ কোটি ২১ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ২৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সমান (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে)।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ডিসেম্বর মাস শেষে প্রবাসী আয় ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার আরও শক্ত ভিত পাবে এবং রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি ফিরবে।

রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকিং খাতে ডলারের উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ভারসাম্য রক্ষা ও বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক হস্তক্ষেপ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আজ চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে প্রায় ৬ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে।

মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে এই ডলার কেনা হয়, যেখানে প্রতি ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয় ১২২ দশমিক ৩০ টাকা। এর মাধ্যমে চলতি অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৩২ মিলিয়ন বা ২ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ২০ ডিসেম্বর সময়ে দেশে এসেছে ২১৭ কোটি ২১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১৯৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৫২১ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের (১ হাজার ৩১২ কোটি ডলার) তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রণোদনা এবং বৈধ পথে টাকা পাঠানো সহজ হওয়ায় প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও।

সংবাদটি শেয়ার করুন