রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বিশাল জানাজা ও ব্যক্তিগত গুণাবলীর কথা স্মরণ করে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, তিনি জীবনে এর চেয়েও বড় কোনো জানাজা আগে দেখেননি। তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অগ্রসৈনিক ও তরুণ নেত্রী শরীফ ওসমান বিন হাদির অকাল মৃত্যুতে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) পূর্বাচল নতুন শহরের স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের স্থায়ী ক্যাম্পাসে সপ্তম সমাবর্তনের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, “হাদির জানাজায় মানুষের আহাজারি ও দোয়া আমাকে স্তব্ধ করেছে। আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহ হাদিকে সর্বোচ্চ স্থানে স্থান দেবেন।”
তিনি আরও বলেন, হাদি ছিল এক নিঃস্বার্থ মানুষ। নিজের কথা ভাবতেন না, অন্যের কল্যাণ ও ন্যায়বিচারের দিকে মনোনিবেশ করতেন। তার চারপাশের সবাই তাকে ভালোবাসতো।
আইন উপদেষ্টা একটি ব্যক্তিগত স্মৃতি শেয়ার করে বলেন, হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার সংগঠনের নেতারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। সেখানে তিনি দেখেছেন, হাদির সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাবের কাঁদতে কাঁদতে বলছিল, একদিন তারা অফিসে ঘুমিয়েছে। হাদি জাবের কে নিজের বালিশ দিয়ে নিজে বালিশ ছাড়াই কার্পেটে মাথা রেখে ঘুমিয়েছিল।
আরেকটি ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাদি নিজে সহকর্মীর ধোয়ার জন্য রাখা কাপড়গুলো নিজে ধুয়ে এনেছিলেন। এই ধরনের ছোট ছোট দৃষ্টান্তই তার নেতৃত্বের মানবিক দিক এবং সহকর্মীদের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসার প্রমাণ।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর হাদি বিভিন্ন প্রলোভনকে জয় করে সৎ ও নির্ভীক থেকেছেন। আমরা তার জীবন থেকে অনেক শিক্ষা নিতে পারি।” তিনি আরও যোগ করেন, “আজকের শিক্ষার্থীরাও হাদির মতো সাহসী ও ন্যায়পরায়ণ হয়ে উঠুক—এটাই আমার আশা।”
সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০টি বিভাগের ৬৭২ জনকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এছাড়া তিনজন শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলর’স গোল্ড মেডেল, চারজনকে ভাইস-চ্যান্সেলর সিলভার মেডেল এবং ২০ জনকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন স্টেট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান। শোভাযাত্রার মাধ্যমে সিন্ডিকেট সদস্য, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, শিক্ষক ও গ্র্যাজুয়েটরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক দিয়ে সমাবর্তনস্থলে প্রবেশ করেন। সমাবর্তন বক্তা ছিলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ।
উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ডা. এ এম শামীম, ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডা. মো. মাহবুবুর রহমান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নওজিয়া ইয়াসমীন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অ্যালামনাই, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।
২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রধান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এর আগে ছয়টি সমাবর্তনে ১৫ হাজারেরও অধিক গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি অর্জন করেছেন।




