ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভুয়া কোম্পানির ফাঁদে গাজার ফিলিস্তিনিরা

গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের যুদ্ধের মাধ্যমে উচ্ছেদে ব্যর্থ হওয়ার পর ইসরায়েল ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে ইসরায়েল হতাশাগ্রস্ত ফিলিস্তিনিদের শোষণ করছে এবং তাদের গাজা থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের সুযোগ করে দিচ্ছে। এই কোম্পানি ফিলিস্তিনিদের গোপনে দেশ ছাড়ার সুযোগ করে দিতে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করছে, যা সম্ভবত এই অঞ্চলে জাতিগতভাবে নির্মূল করার পরিকল্পনার অংশ।

এক্সক্লুসিভ ডিজিটাল তদন্তে দেখা গেছে, গত মাসে একটি রহস্যময় বিমানে গাজা থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৫৩ জন ফিলিস্তিনি যাত্রীকে নেওয়া হয়েছিল। এর পেছনে ছিল ‘আল-মাজদ ইউরোপ’ নামে একটি অনিবন্ধিত সংগঠন, যারা মানবিক উদ্দেশ্যে কাজ করার মিথ্যা দাবি করেছিল। ফিলিস্তিনিরা ১৩ নভেম্বর ওআর টাম্বো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের প্রবেশে বাধা দেয়। তাদের পাসপোর্টে ইসরায়েল থেকে প্রস্থান স্ট্যাম্প না থাকায় ১২ ঘণ্টা বিমানে আটকে রাখা হয় এবং পরে নামার অনুমতি দেওয়া হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ঘটনার তদন্তের ঘোষণা দেন, কারণ মনে হচ্ছে ফিলিস্তিনিরা ‘বিতাড়িত’ হয়েছেন। এর আগে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে বলেছিলেন, তারা গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের ‘স্বেচ্ছায় অভিবাসন’কে সমর্থন করে, যা কার্যত জোরপূর্বক উচ্ছেদ। ২০২৫ সালের মার্চে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা ফিলিস্তিনিদের স্বেচ্ছায় গাজা ত্যাগের জন্য একটি বিতর্কিত ব্যুরো গঠন করে, যার নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক প্রতিরক্ষা উপ-পরিচালক ইয়াকভ ব্লিটস্টাইন।

আল-মাজদ ইউরোপ একটি নতুন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাদের অনলাইন উপস্থিতি তৈরি করে। ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছিল, তারা মুসলিম দেশগুলোতে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে, বিশেষ করে গাজা ত্যাগ করতে ইচ্ছুক ফিলিস্তিনিদের জন্য। তবে আল-জাজিরার তদন্তে দেখা গেছে, এই ত্রাণ কার্যক্রমের সব বিষয়ই ভুয়া। আল-মাজদ দাবি করেছিল, তারা ২০১০ সালে জার্মানিতে প্রতিষ্ঠিত একটি মানবিক ফাউন্ডেশন এবং প্রধান কার্যালয় পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জাররাতে। কিন্তু কোনও জার্মান বা ইউরোপীয় ডাটাবেসে তাদের নাম পাওয়া যায়নি, অনুমিত ঠিকানাটি সরকারি রেকর্ডে উপস্থিত নেই এবং গুগল ম্যাপে এটি একটি হাসপাতাল ও ক্যাফের সাথে সম্পর্কিত।

বিস্তৃত তদন্তের ভিত্তিতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, আল-মাজদ ইউরোপ প্রকৃতপক্ষে একটি ভুয়া মানবিক সংগঠন, যা ফিলিস্তিনিদের শোষণ এবং জোরপূর্বক উচ্ছেদে ইসরায়েলের সহযোগিতা করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন