নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে পতনের ধারা আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে চলা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তায় সূচকের বড় ধরনের অবনমন ঘটেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গত সপ্তাহে ১৩২ পয়েন্ট বা ২.৬৭ শতাংশ হারিয়ে ৪৮৩১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। মূলত বাজারের স্থিতিশীলতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় ঢালাওভাবে শেয়ার বিক্রির চাপ সূচকটিকে নিচের দিকে নামিয়ে দিয়েছে।
ইবিএল সিকিউরিটিজের সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পুরো সপ্তাহজুড়েই বাজার নিম্নমুখী চাপের মধ্যে ছিল। ডিভিডেন্ড বা ভালো খবরের মতো কোনো শক্তিশালী প্রভাবক না থাকায় বিনিয়োগকারীরা আস্থা ফিরে পাননি। বিশেষ করে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা থাকায় অনেক বিনিয়োগকারী তাঁদের পোর্টফোলিওতে লোকসান কমাতে শেয়ার বিক্রি করে হাত গুটিয়ে নিয়েছেন। এর ফলে এক সপ্তাহেই বাজারের মূলধন প্রায় ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা কমে গেছে। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৩৫টিরই দাম কমেছে, বিপরীতে বেড়েছে মাত্র ৩২টির।
বাজারের এই ধসের পেছনে বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর পতন প্রধান ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মা, ওয়ালটন ও গ্রামীণফোনের মতো মৌলিকভাবে শক্তিশালী শেয়ারগুলোর দর কমে যাওয়ায় সূচক দ্রুত নিচে নেমেছে। যদিও ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরার খবর নিয়ে কিছু বিনিয়োগকারীর মাঝে ইতিবাচক প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির ওপর হামলার মতো ঘটনাগুলো সেই আশাকে ম্লান করে দিয়েছে।
খাতভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত সপ্তাহে সবকটি খাতের রিটার্ন ছিল নেতিবাচক। এর মধ্যে পাট, কাগজ ও জীবন বিমা খাতে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বস্ত্র খাতে সর্বোচ্চ ১৬.৭ শতাংশ লেনদেন হয়েছে, এর পরেই ছিল ওষুধ ও প্রকৌশল খাত। বাজারের এই অস্থির সময়েও বঙ্গজ, রিলায়েন্স ওয়ান মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং বিডি ওয়েল্ডিংয়ের মতো হাতেগোনা কয়েকটি শেয়ারের দাম কিছুটা বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে না আসা পর্যন্ত বড় বিনিয়োগকারীরা সাইডলাইনে অবস্থান করায় বাজারের এই নাজুক অবস্থা কাটানো কঠিন হবে।




