ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুক্তিযুদ্ধের উপ-প্রধান সেনাপতি এ কে খন্দকার আর নেই

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নায়ক এবং বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার, বীর উত্তম পরলোকগমন করেছেন। আজ সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আইএসপিআর এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি রংপুরে জন্মগ্রহণ করা এ কে খন্দকারের পৈতৃক নিবাস পাবনার বেড়া উপজেলার ভারেঙ্গা গ্রামে। তার বাবা খন্দকার আব্দুল লতিফ ছিলেন ব্রিটিশ আমলের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং মা আরেফা খাতুন ছিলেন একজন আদর্শ গৃহিণী। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। বাবার চাকরির সুবাদে বগুড়া করোনেশন স্কুলে তার শিক্ষার হাতেখড়ি এবং ১৯৪৭ সালে মালদা জেলা স্কুল থেকে তিনি ম্যাট্রিক পাশ করেন।

পেশাগত জীবনে ১৯৫২ সালে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে পাইলট অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন এ কে খন্দকার। দীর্ঘ সামরিক ক্যারিয়ারে তিনি ফাইটার পাইলট, ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্কোয়াড্রনের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি ঢাকা বিমান বাহিনী ঘাঁটির সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে নিযুক্ত হন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি দেশমাতৃকার ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন। দেশ স্বাধীন করার লড়াইয়ে তিনি মুক্তিবাহিনীর ‘ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ’ হিসেবে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেন। ২১ নভেম্বর ১৯৭১ সালে তিনি গ্রুপ ক্যাপ্টেন হিসেবে পদোন্নতি পান এবং জেনারেল এম.এ.জি. ওসমানীর ব্যক্তিগত ডেপুটি ইন চার্জ বা উপ-প্রধান সেনাপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

মুক্তিবাহিনীর এই কিংবদন্তি সমরনায়কের প্রয়াণে দেশের সামরিক ও বেসামরিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বার্ধক্যের কাছে হার মেনে আজ তিনি পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে, তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে তার অবদান চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন