ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুদান থেকে ফিরলেন শান্তির দূতরা

সুদানের আবেইতে শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে ড্রোন হামলায় শহীদ হওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয় বীর সদস্যের মরদেহ অবশেষে দেশে ফিরেছে। আজ শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে তাদের নিথর দেহ নিয়ে একটি বিশেষ বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। স্বজনদের অশ্রুসজল চোখ আর রাষ্ট্রীয় শোকের আবহে পরম মমতায় বরণ করে নেওয়া হয় শান্তির এই অগ্রদূতদের।

শহীদ শান্তিরক্ষীদের বহনকারী বিমানটি গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় উগান্ডার এন্টেবে বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। দীর্ঘ আকাশপথ পাড়ি দিয়ে আজ সকাল সোয়া ১১টার কিছু আগে বিমানটি রানওয়ে স্পর্শ করে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বিমানবন্দর থেকে মরদেহগুলো হস্তান্তরের পর যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে।

গত ১৩ ডিসেম্বর (শনিবার) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে সুদানের আবেইতে জাতিসংঘ মিশনের ‘কাদুগলি লজিস্টিকস বেইসে’ এই নারকীয় হামলা চালানো হয়। একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর আকস্মিক ড্রোন হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বাংলাদেশের এই ছয় কৃতি সন্তান। ওই ঘটনায় আহত আরও আটজন শান্তিরক্ষী বর্তমানে কেনিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তবে তারা সবাই এখন আশঙ্কামুক্ত।

বিশ্বশান্তির জন্য জীবন বিলিয়ে দেওয়া এই ছয় শহীদ হলেন নাটোরের করপোরাল মো. মাসুদ রানা, কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম ও সৈনিক শান্ত মণ্ডল, রাজবাড়ীর সৈনিক শামীম রেজা, কিশোরগঞ্জের মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং গাইবান্ধার লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া। তাদের এই অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে নিজ নিজ এলাকায়।

১৯৮৮ সালে মাত্র ১৫ জন সদস্য নিয়ে শুরু হওয়া বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা যাত্রা আজ এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমানে বিশ্বের ১১৯টি দেশের মধ্যে শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তবে এই গৌরব অর্জনের পথ সবসময় কণ্টকাকীর্ণ ছিল। এই ছয়জনসহ এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৬৮ জন বীর সদস্য বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই সম্মান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে চিরকাল উজ্জ্বল করে রাখবে। এই বীরদের আত্মত্যাগ কেবল দেশের সামরিক বাহিনীর গর্ব নয়, বরং পুরো জাতির জন্য এক শোকাতুর গৌরবের ইতিহাস হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন