ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাদি হত্যাকাণ্ড: দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জাতিসংঘের

সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন জুলাই বিপ্লব ও ইনকিলাব মঞ্চের অন্যতম মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া ফেলা এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুক্রবার জেনেভা থেকে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি এই মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে বাংলাদেশ সরকারকে একটি দ্রুত, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এক বিশেষ বিবৃতিতে জানান, গত বছরের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকা হাদির মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশে স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা এখন সময়ের দাবি। বিবৃতিতে তিনি দেশবাসীকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সহিংসতা বা প্রতিশোধের পথ বেছে নিলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হবে, যা সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সরকারের প্রধান দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তুর্ক। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে পরামর্শ দেন যেন অবিলম্বে হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ খুঁজে বের করা হয় এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা হয়। মানবাধিকার প্রধানের মতে, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘দায়মুক্তির সংস্কৃতি’ ভাঙতে হলে এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

গত সপ্তাহে হামলার শিকার হওয়ার পর হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল, যেখানে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার এই প্রস্থান দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তির বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন