প্রতিষ্ঠিত তথ্য ফাঁসকারী সংস্থা উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ সম্প্রতি সুইডেনে নোবেল ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।
অ্যাসাঞ্জ দাবি করেছেন, মাচাদোকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া সুইডিশ আইন অনুযায়ী তহবিলের ‘গুরুতর অপব্যবহার’ এবং ‘যুদ্ধাপরাধে সহায়তা’ হিসাবে গণ্য করা উচিত। তাই তিনি পুরস্কারের অর্থ হিসেবে ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার ডলার) মাচাদোর কাছে হস্তান্তর রোধ করতে আইনি ব্যবস্থা নিতে চান।
নোবেল কমিটি ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ঘোষণা দিয়েছিল, মাচাদোকে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা ও স্বৈরশাসন থেকে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তরে তার ভূমিকার জন্য শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হবে। তবে এই সিদ্ধান্তের পরপরই বিতর্ক শুরু হয়েছে।
অ্যাসাঞ্জের অভিযোগে নোবেল ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত ৩০ জনের বিরুদ্ধে তহবিল অপব্যবহার, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তা এবং আগ্রাসনমূলক কর্মকাণ্ডের অর্থায়নের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, মাচাদোকে পুরস্কার দিয়ে শান্তির একটি প্রতীককে ‘যুদ্ধের উপকরণে’ রূপান্তর করা হয়েছে।
অ্যাসাঞ্জের যুক্তি অনুযায়ী, মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে ক্ষমতা ছাড়তে সামরিক চাপ প্রয়োগে উসকানি ও সমর্থন দিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে তিনি নোবেল পুরস্কারের জন্য অযোগ্য।
মাচাদোকে নোবেল দেওয়ার বিষয়টি শুরু থেকেই বিতর্কিত। গাজায় চলমান ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন দেওয়ার কারণে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন। নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা আসার পরই মাচাদো ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে মিলিত হন এবং ক্ষমতায় আসলে ভেনেজুয়েলার দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের অঙ্গীকার করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনও ভেনেজুয়েলার নৌযানগুলোকে লক্ষ্য করে সামরিক হামলা চালিয়েছে, যদিও মাদক পাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। অ্যাসাঞ্জের মতে, মাচাদো এই হামলার সমর্থন দিয়েছেন এবং তাই নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য নন।
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ ২০০৬ সালে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০১০ সালে চেলসি ম্যানিংয়ের তথ্য ফাঁসের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পান। ২০১২ সালে তিনি সুইডেনের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এড়াতে ইকুয়েডরের লন্ডন দূতাবাসে আশ্রয় নেন।
২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি লন্ডনের বেলমার্শ কারাগারে বন্দী ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসন তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়েছিল। ২০২৪ সালে গুপ্তচরবৃত্তি আইন লঙ্ঘনের দোষ স্বীকার করে তিনি মুক্তি পান এবং অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান।
অ্যাসাঞ্জের এই আইনি পদক্ষেপ নোবেল শান্তি পুরস্কারের মানদণ্ড ও আন্তর্জাতিক নীতি নিয়ে নতুন বিতর্কের সঙ্কেত দিচ্ছে।




